বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়িকা অঞ্জু ঘোষ। অনেকটা অভিমানেই ঢালিউড তথা দেশ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। নতুন করে জীবন শুরু করেছেন ভারতের কলকাতায়।
তবে সুখবর হলো দীর্ঘ অভিমান কাটিয়ে গতকাল (৬ সেপ্টেম্বর) সেই অঞ্জু ঘোষ ঢাকার মাটিতে পা রেখেছেন। মাঝে সময় কেটে গেল টানা ২২টি বছর।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আমন্ত্রণে তার এই ঢাকা সফর, জানালেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চিত্রনায়ক জায়েদ খান।
তিনি বললেন, ‘প্রায় ২২ বছর পর শিল্পী সমিতির আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় আসলেন। উনার এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। আমি এরমধ্যে তার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। আমি মনে করি ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখনও তার মতো গুণী অভিনেত্রীর প্রয়োজন আছে। সেই ভাবনা থেকেই তাকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। তিনি আমাদের ডাকে এসেছেন, এটা অনেক বড় সুখের বিষয়।’
জায়েদ খান আরও জানান, ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে অঞ্জু ঘোষ এফডিসিতে যাবেন। সেখানে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সরাসরি কথা বলবেন উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও কলকাতায় নিজ বাসায় ফিরে যাবেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অঞ্জু ঘোষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরার হয়ে যাত্রায় নৃত্য পরিবেশন করতেন ও গান গাইতেন। ১৯৮২ সালে এফ, কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এই ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল ছিল। রাতারাতি তারকা বনে যান। অঞ্জু বাণিজ্যিক ছবির তারকা হিসেবে যতটা সফল ছিলেন সামাজিক ছবিতে ততটাই ব্যর্থ হন।
১৯৮৭ সালে অঞ্জু সর্বাধিক ১৪টি সিনেমাতে অভিনয় করেন, মন্দা বাজারে যেগুলো ছিল সফল ছবি। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ অবিশ্বাস্য রকমের ব্যবসা করে এবং সৃষ্টি করে নতুন রেকর্ড।
১৯৯১ সালে বাংলা চলচ্চিত্রে নতুনের আগমনে তিনি ব্যর্থ হতে থাকেন। এর কয়েক বছরের মাথায় তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান ভারতে এবং কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে থাকেন। সর্বশেষ তিনি ভারতের বিশ্বভারতী অপেরায় যাত্রাপালায় নিয়মিত অভিনয় করতেন।
আলোর খবর
