Thursday , August 23 2018

রাগ করেছেন তো মরেছেন! আমি না, ডাক্তার কি বলছে জানুন

রাগ কোনো ভাবেই উপকারে লাগে না, বরং শরীর এবং মনের এত মাত্রায় ক্ষতি করে যে অনেক সময়ই সেই ক্ষতি সামলানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই তো রাগ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

রাগের মতো শক্তিশালী ইমোশানকে যদি ঠিক মতো সামলানো না যায়, তাহলে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। রাগের সময় আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে কর্টিজল এবং অ্যাড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মন খারাপ হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হার্ট রেট এবং রক্তচাপও মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে যে কোনও সময় মারাত্মক কোনও ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে একাধিক মারণ রোগের খপ্পরে পরার সম্ভাবনাও যায় বেড়ে।

মানসিক অবসাদ : মানুষ তখনই খুব রেগে যায় যখন মন খুব খারাপ হয়। ফলে একদিকে মন খারাপ, তার উপর স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাওয়া। এই দুয়ে মিলে মনকে এত মাত্রায় ঝাঁঝরা করে দেয় যে মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের মতো রোগ মাথায় চেপে বসে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে যে যে রোগের প্রকোপ মারাত্মক বৃদ্ধি পয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই পিছনে হাত রয়েছে মানসিক অবসাদের। এবার বুঝেছেন তো রাগের সঙ্গে শরীরের ভাল-মন্দের কতটা যোগ রয়েছে।

মাথা যন্ত্রণা : রাগের সময় শরীরে এমন নেতিবাচক পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাথা যন্ত্রণার মতো সমস্যা দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হেডেক এত ক্রণিক আকার ধারণ করে যে কষ্ট কমতেই চায় না।

উচ্চ রক্তচাপ : রাগের পাড়া যখন চড়তে শুরু করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপও বাড়তে থাকে। আর হঠাৎ করে এমনভাবে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া বয়স্ক মানুষদের পক্ষে একেবারেই ভা নয়। কারণ এমন ক্ষেত্রে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, অনিয়ন্ত্রিত জীবন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে এমনিতেই যুব সমাজের শারীরিক অবস্থা ভাল নয়, তার উপর যদি তারা কথায় কথায় রাগ দেখাতে শুরু করেন, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

হজম ক্ষমতা কমে যায় : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রাগের মাত্রা বাড়তে থাকলে শরীরে হরমোনাল চেঞ্জ হতে থাকে। সেই সঙ্গে পাচক রসের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস-অম্বল এবং বদ-হজমের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। অনেকক সময় রাগের কারণে ক্রণিক অ্যাবডমিনাল পেন হওয়ার মতো সমস্যাও হয়ে থাকে। তাই সাবধান!

Facebook Comments