Thursday , August 30 2018

‘যমজ’ নির্মাতার বিরুদ্ধে অনিমেষের প্রতারণার অভিযোগ

ঈদ ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে গত কয়েক বছরে ‘যমজ’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এর মূল ভাবনা নির্মাতা ও অভিনেতা অনিমেষ আইচের। কয়েকদিন আগে তিনি জানতে পারেন, নাটকটির নির্মাতা আজাদ কালাম গল্পের মূল ভাবনার জায়গায় তার নাম বাদ দিয়ে নিজের নাম জুড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন অনিমেষ।

‘যমজ’ সিরিজের নবম পর্বের চিত্রনাট্য লিখেন অনিমেষ। পরে ‘কোনো কারণে’ নিজেকে নাটকটি থেকে সরিয়ে নেন তিনি।

এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে ১৯ আগস্ট, রবিবার দুপুরে অনিমেষ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘যমজ নাটক নিয়ে এই কদর্যতা আমার পছন্দ হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে কপিরাইট ইস্যুতে আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

অনিমেষ জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে বিষয়টি টেলিভিশন পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টর’স গিল্ডকে জানিয়েছেন।

নাটকের মূল ভাবনা প্রসঙ্গে অনিমেষের ভাষ্য, ‘তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে শুটিং করছে। কাউকে কিছু জানাচ্ছেন না। কেউ যদি চুরি করে ধরা পড়ে, তখন সে নানান দাবি করবে, এটাই স্বাভাবিক। গোপনে চৌর্যবৃত্তি ঠিক না।’

অনিমেষ আরও বলেন, ‘নাটকটির মূল ভাবনা আমার। এই নাটকের নয়টি সিরিজ লিখেছি আমি। হঠাৎ করেই মূল ভাবনা আজাদ কালামের হয়ে গেল! আমি অনিমেষ আইচ হওয়ার পেছনে যমজ একমাত্র উপাদান নয়। আমার মতো মানুষের সঙ্গে যদি এ ধরনের প্রতারণা করা হয়, তাহলে নতুন যারা কাজ করছে, তাদের ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে!

আমি তার জন্য কী করছি আর করেছি, সেটা সে বলতে পারবে। তাকে তো আমি পছন্দ করতাম। কিন্তু এ ঘটনার ফলে সে তার জায়গাটা হারাল। টাকা দিয়ে তো আর সব সম্পর্ক হয় না।’

এ বিষয়ে টিভি নাটক নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টর’স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি বিষয়টা খুব একটা ক্লিয়ার না। অনিমেষ দা কাল ফোন করেছিলেন। এরপর ঘটনাটা বলল। তিনি ঘটনার লিখিত দেবেন। তখন বিস্তারিত বলতে পারব। বিষয়টা তো একজন চিত্রনাট্যকারের দিক থেকে বেশ ইমোশনের। এটা দুঃখজনক। আমি এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলতে পারব না। কারণ অনিমেষ দাদার সঙ্গে বিস্তারিত কথা না হলে বিষয়টা বোঝা মুশকিল।’

‘যমজ ১০’ নাটকটির চিত্রনাট্য লিখছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মূল গল্প ভাবনা তো অনিমেষ আইচের না। এটা আজাদ কালামের। তিনি অনিমেষ আইচকে দিয়ে চিত্রনাট্য লিখিয়েছেন। এখন আর লিখেন না, এই তো। অনিমেষ আইচকে বাদ দেওয়ার সঠিক কারণ ছিল। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার কোনো দায় নাই।’

দুপুর আড়াইটার দিকে এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নির্মাতা আজাদ কালামের সঙ্গে। আলাপের শুরুতেই তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। যা বলার তিনি সংগঠনের মাধ্যমেই বলবেন।

কথা প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করে বলেন,‌ ‌‌‌‌‘যমজ’ নাটকের মূল ভাবনা কার? উত্তরে নির্মাতা আজাদ কালাম এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘আপনার কাছে অনিমেষ আইচের নম্বর আছে?’

পরে প্রতিবেদক তাকে জানান, এ বিষয়ে অনিমেষ আইচের সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেই কথা হয়েছে। তখনই কথার প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে আজাদ কালাম বলেন, ‘যা ঘটছে আমার আর অনিমেষের। বিষয়টা আমাদের দু’জনের। আমাদের দু’জনের মধ্যে সমস্যা হয়েছে। আমরা দু’জনে সলভ (সমাধান) করে নেব।

ও আমার খুব ক্লোজ (ঘনিষ্ঠ)। কারো সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক থাকলে কোথাও না কোথাও একটা জটিলতা লাগতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, এখানেই সম্পর্কের শেষ। আর সে তো আমার নির্মাণের গুরু। তাই এ নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।’

চলতি বছরের ২৮ মে ঢাকার অদূরে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বিরিশিরিতে ‘মেঘ মায়া’ নামে একটি নাটকের শুটিং করতে গিয়ে টাকার সংকটে পড়েছিলেন নির্মাতা আজাদ কালাম।

অভিযোগ রয়েছে, সে সময় ইউনিটের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ও ক্রুদের আটকে রেখেছিল স্থানীয় ড্রাইভারদের সমিতি। সে সময় অনিমেষ আইচ আজাদ কালামকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। আর তারা ছাড়া পান।

‘যমজ’ নাটকের প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করছেন এই সময়ের নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম।

Facebook Comments