Monday , September 3 2018
Since violence broke out in Myanmar on August 25, over half a million Rohingya people have fled their homes seeking sanctuary in Bangladesh. More than two hundred thousand have established spontaneous settlements in Cox's Bazar where there is limited access to basic sanitation services such as safe drinking water and toilets. Nurkaida’s father Kalsha was a farmer in Rakhine State. He died from a gunshot wound in September 2017. Nurkaida (13) witnessed this incident and hid in the jungle with her mother and three brothers before they fled for their lives to Bangladesh.

‘আমি ভাগ্যবান, মাত্র তিনজন আমাকে ধর্ষণ করেছে’

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মিয়ানমার সেনারা কীভাবে রাখাইনে পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে রাখাইনের অন্তত ১০টি গ্রামে ঢুকে সেনারা প্রকাশ্যে ও পরিবারের সদস্যদের সামনে ৪০ নারী ও কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে। অবস্থাটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, ধর্ষিত এক রোহিঙ্গা নারী তদন্তকারীদের কাছে বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, মাত্র তিনজন আমাকে ধর্ষণ করেছে!’

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুমুল আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ পাঁচ জেনারেলের নাম উল্লেখ করে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে না নেওয়া সম্ভব হলে অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যেখানে রাশিয়া ও চীনের মতো সুপারপাওয়ার মিয়ানমারকে রক্ষা করে চলেছে, সেখানে সত্যিই ওই গণহত্যার বিচার কতটুকু করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। মঙ্গলবার এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধের লেখক কৃষ্ণাদেব কালামুর সেখানে রাখাইন গণহত্যার বিচার এই মুহূর্তে কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট নয়; বরং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের শুরু ১৯৮২ সালে। তখন দেশটির তৎকালীন জান্তা সরকার আইন করে রোহিঙ্গাসহ দেশটির আটটি ক্ষুদ্র জনজাতির মানুষদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তখন থেকেই মূলত রোহিঙ্গারা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত ও নিপীড়িত হতে থাকে। গত বছরের আগেও ২০১২ সালে এক বৌদ্ধ নারী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয় রোহিঙ্গারা। সে সময়ও বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। আর গত বছর পুলিশ ও সেনা চৌকিতে হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই সময়ে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী।

কিন্তু এই মুহূর্তে এর বিচার সম্ভব কি-না তা নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, ‘আমরা আইসিসিতে এ বিষয়ে যে শুনানি বা পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছি; বাস্তবতা হলো রাজনৈতিকভাবে এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা একটি কাঠামোগত পদ্ধতি প্রণয়নের প্রতি জোর দিয়েছি, যেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ নির্যাতনের তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তা জমা থাকবে। একই সঙ্গে এগুলো যেন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন সম্ভব হয়, আর তার জন্য একটি প্রসিকিউটোরিয়াল ফাইলও প্রস্তুত করা যায়। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাঠামোগত পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন আছে।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, মিয়ানমারে গণহত্যার তদন্তে জাতিসংঘের প্যানেলের সুপারিশটি অভূতপূর্ব হলেও এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য দেশ নয়। ফলে আইসিসিতে দেশটির বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো পদক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যকে নিতে হবে। আর মিয়ানমারের বন্ধু দেশ বলে পরিচিত চীন ও রাশিয়া পরিষদে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন। তারা আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মিয়ানমারকে আড়াল করে চলেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারও রাখাইনের ঘটনা নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক তদন্তে সহযোগিতা করবে না বলে জানিয়েছে। এমনকি তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তেও সহযোগিতা করেনি।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অলিভিয়া ইনোস বলেন, মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে আমাদের দেশ কিন্তু থেমে থাকেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্র একে ‘জাতিগত নির্মূল’ আখ্যা দিয়ে একটি অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন যে একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তা ইতিবাচক।

Facebook Comments