Friday , August 10 2018

নতুন প্রশ্নের সমক্ষিন টাইগার মাসরাফি

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ চলাকালে মাঠেই ইনজুরি আক্রান্ত হলেন। সেই যে টেস্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন, সেটা এখন টেস্টে অঘোষিত অবসরে রূপ নিয়েছে। ১৯০টি ওডিআই খেলা বাংলাদেশে দলের সর্বোকালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি এখনও ওডিআই দলে বহাল আছেন। ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তিনিই অধিনায়কত্ব করবেন, যদি সব ঠিক থাকে।

কিন্তু ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া ম্যাশ ২০১৭ সালে কলম্বোতে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সে সফর থেকে দেশে ফেরার পরই বিসিবির বিশেষ চাপেই টি-টোয়েন্টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। বিসিবির কিছু মানুষের বক্তব্য ছিল ম্যাশ না-কি পারছিলেন না! এ প্রসঙ্গটি ২০১৮ সালে এসে প্রচন্ড রকমে আলোড়ন তৈরি করেছে এদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। প্রশ্ন উঠেছে মাশরাফি পারছিলেন না, তাহলে বর্তমান দলের সদস্যরা কে কি পারছে!

১০ ওভার পারলে, ৪ ওভারে সমস্যা কোথায়?

উইন্ডিজ সফরে টেস্টে লজ্জাকর হারের পর মাশরাফি উইন্ডিজের মাটিতে পা রাখলেন আর দলের চেহারাই বদলে গেল। ২-১ ব্যবধানে স্বাগতিকদের হারটা আফসোসই থাকবে। কারণ দ্বিতীয় ম্যাচটা যারা টিভিতে বসে দেখেছে তারা বুক চাপড়েছে। হাতের মুঠোর মধ্যে থাকা ম্যাচ নিজেদের ভূলে কিনা ৩ রানে হার! তারপরও সেই প্রবাদ বাক্যটিই সত্য ‘শেষ ভাল যার সব ভাল তার’।

মাশরাফির তিন ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স এর কারণেই এই প্রবাদ বাক্যটি সামনে এসেছে। মাশরাফি দলে নেই বলে উইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কেন নেই মাশরাফি? সমস্যা কোথায়? ওডিআই সিরিজে টানা ১০ ওভার যে বোলার একই রিদমে বল করতে পারেন, সেই বোলারটি টি-টোয়েন্টির মতো ছোট ম্যাচে ৪ ওভারে সমস্যা কোথায়? বিসিবির বোর্ড পরিচালক, কোচ আর সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে এ নিয়ে এখন গরম বাতাস বইছে। বিসিবির চাপেই মাশরাফি অনেক আগেই টি-টোয়েন্টি-তে অবসরে গেছেন। তাই এনিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

তবে বিসিবির অন্দর মহলে ৭ উইকেটে হারের পর আমেরিকাতে অবকাশ যাপনে থাকা মাশরাফিকে দলে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবটি না-কি মাশরাফিকে দেয়াও হয়েছে তার ঘনিষ্ট জন দিয়ে। কিন্তু সিরিজের মাঝপথে মাশরাফি দলে পা রাখতে রাজী হলে না। এতে কাউকে না কাউকে বাদ দিতে হবে, এটা মেনে নিতে পারেননি মাশরাফি। তবে ‘১০ ওভার পারলে, ৪ ওভারে সমস্যা কোথায়?’ এই প্রশ্নটি এখন বিসিবির সকলের মুখে মুখে।

Facebook Comments