বগুড়া শহরের ধাওয়াপাড়া এলাকায় শিশু কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় সৎ বাবাকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযুক্ত বাবা আবু জালাল হিরুকে (৫২) গ্রেফতার করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
শিশুটিকে উদ্ধারের পর থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে সময়ের কন্ঠস্বরকে জানিয়েছেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানিয়েছে, আবু জালাল হিরু পেশায় সাবেক পরিবহন শ্রমিক। সে বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকার মৃত হামিদ আলির ছেলে। বসবাস করে ধাওয়াপাড়া এলাকায়। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর গাবতলী উপজেলার সোনালী বেগমকে (ছদ্ম নাম) প্রায় বছর আগে বিয়ে করে। আবু জালাল হিরু স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় স্ত্রী সোনালীর আগের পক্ষের তিন সন্তান ছিল। এর মধ্যে এক শিশু কন্যার বয়স ৯ বছর। সে একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। শিশুটির মা অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বাড়িতে কেউ না থাকায় শিশুটির ওপর কু-নজর দেয় সৎ বাবা লম্পট আবু জালাল হিরু। সম্প্রতি সুযোগ বুঝে শিশুটিকে দুইবার ধর্ষণের চেষ্টা করে লম্পট সৎ বাবা। শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানিয়েছিল, কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ আগস্ট) সকালে তৃতীয় দফায় ধর্ষণ চেষ্টার পর বিষয়টি শিশুটির খালাসহ আশপাশের লোকজন জেনে যায়। ঘটনাটি গ্রাম্য মোড়লদের কানে গেলে দফারফা শুরু হয়। টাকার বিনিময়ে শিশু কন্যাকে সৎ বাবার ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়লরা। এই বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে সৎ বাবা আবু জালাল হিরুকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত লম্পট সৎ বাবাকে গ্রেফতার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আলোর খবর
