ছেলে মেয়ে উভয়ই ঘাড় এবং কাঁধে ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন। যারা একটানা বসে কাজ করেন তাদের বেশি এই সমস্যা দেখা দেয়। একটানা কাজ করার কারণে অনেক সময় ঘাড় আড়ষ্ট হয়ে শক্ত হয়ে যায়। এইরকম আড়ষ্ট হলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাটি করা উচিত। কিন্তু সময়ের অভাবের কারণে অনেকে এটি করেন না।
বিভিন্ন কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হল কাঁধের লিগামেন্টের নরম টিস্যু আঘাত পাওয়া। আবার অনেক শোয়ার কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এই বিরক্তিকর ব্যথা দূর করা সম্ভব ঘরোয়া কিছু উপায়ে।
১. ঠান্ডা পানির সেঁক: কাঁধ ঘাড়ে ব্যথা দ্রুত কমাতে ঠান্ডা পানির সেঁক বেশ কার্যকর। কিছু পরিমাণ বরফ একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে অথবা টাওয়ালে পেঁচিয়ে নিন। এবার এটি ব্যথার স্থানে ১০-১৫ মিনিট সেঁক দিন। এটি দিনে কয়েকবার করুন। এছাড়া আপনি ঠান্ডা পানিতে টাওয়াল ভিজিয়ে সেটি দিয়ে সেঁক দিতে পারেন। তবে সরাসরি বরফ ত্বকে ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ২. হলুদ: দুই টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ব্যথার স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
শুকিয়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। এক কাপ দুধে এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে জ্বাল দিন। এরসাথে মধু মেশাতে পারেন। এটি পান করুন। এটি আপনার ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দেবে। ৩. গরম পানির ব্যবহার: গরম তাপ ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা নিরাময়ে অনেক উপকারী। একটি হটব্যাগে গরম পানি ১৫ মিনিট করে সেঁক দিন। এটি দিনে কয়েকবার করুন। এতে করে ঘাড় ও কাঁধের মাংসপেশি রিলাক্স হবে ও আড়ষ্টতা একেবারে কেটে যাবে। এছাড়া কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।
এটিও আপনাকে আরাম দেবে। ৪. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: গরম পানিতে দুই কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এই পানিতে ২০-৩০ মিনিট গোসল করুন। এছাড়া এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি দিনে দুইবার সপ্তাহে একবার খান। ৫. আদা: প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ আদা চা পান করুন। দুই কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিন। এরসাথে মধু মেশান। আদার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইলফ্লামেটরী উপাদান কাঁধ এবং ঘাড়ের ব্যথা কমিয়ে দিবে।[২]
‘মিরর মাসল সিনড্রোম’: সুস্থ থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি অঙ্গেরই সুস্থতা প্রয়োজন। যেকোনো একটি অঙ্গের ব্যথায় দেখা যায় সব আনন্দই মাটি হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই প্রায় কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে এর কারণ ‘মিরর মাসল সিনড্রোম’।
এতে যেসব মাংসপেশি সামনে থেকে দেখা যায় সেগুলোরই বেশি ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে পেছনের অনেক মাংসপেশির ব্যবহার কমে যায়। এতে মাংসপেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে কাঁধে ব্যথা শুরু হয়। জিমে শরীরের ওপরের অংশের মাংসপেশির চর্চার জন্য ‘পুশ’ জাতীয় ব্যায়াম করা হয়। কিন্তু তা কাঁধের ব্যথা কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাই শুধু পুশ জাতীয় ব্যায়াম যথেষ্ট নয়, এ জন্য পুল জাতীয় ব্যায়ামও দরকার। তবে সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে কাঁধের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে কি না। খুব সহজেই এ পরীক্ষা নিজে নিজেই করা যায়। এর জন্য দরকার দুটি পেনসিল বা কলম। একে আমরা পেনসিল টেস্টও বলতে পারি। দুই হাতের মুঠোয় দুটি পেনসিল বা কলম নিয়ে হাত দুটি সোজা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। হয়ে গেল টেস্ট। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুঠো খুব শক্ত না হয়।
এবার হাতের দিকে খেয়াল করুন। দুই হাতের পেনসিল কি সোজা বাইরের দিকে মুখ করে আছে? যদি থাকে তাহলেই আপনার কাঁধ ঠিক আছে। মাংসপেশির ভারসাম্য ঠিক আছে। যদি দেখা যায় দুই হাতের পেনসিল ভেতরের দিকে কিছুটা বেঁকে আছে, তাহলে কাঁধের ভারসাম্য কিছুটা নষ্ট হয়েছে। পেনসিল যদি একে অপরের দিকে মুখ করে থাকে, তাহলে যথেষ্ট চিন্তার আছে। কেননা আপনার কাঁধের ভারসাম্যে যথেষ্ট সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে আপনার কাঁধের ব্যথা শুরু হতে পারে। যদি আপনি ওজন তোলা বা কাঁধের মাংসপেশি বেশি ব্যবহার হয় এমন কাজ করেন তাহলে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আলোর খবর
