মা’ ডেকে ৭০ বছরের- এবার ধর্ষণের শিকার হলেন সত্তর বছরের প্রবীণা। কয়েকজন সাংবাদিকের তৎপরতায় তার চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। এক বছরের শিশু থেকে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা, কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। ধর্ষক রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে যায় রাস্তার ধারে। ধর্ষণের আগে মহিলাকে ‘মা’ সম্বোধন করে চা খেতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সেই ব্যক্তি। তারপরেই এই কাণ্ড।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নাসির খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা বড় দুর্ঘটনার পর অনেক আহত যাত্রীকে আনা হয়েছিল। তা নিয়ে ব্যস্ততা ছিল। তাই ব্যাপারটা অনেকক্ষণ নজর এড়িয়ে যায়। পরে বৃদ্ধাকে ভর্তি করানো হয়। সাংবাদিকরাই নিগৃহীতাকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করান। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে।’
বৃদ্ধা বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের স্ত্রীরোগ বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালের সুপার ডা. উৎপল তা বলেন, ‘এখন রোগিণীর অবস্থা স্থিতিশীল। প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
বৃদ্ধা বলেন, ‘একটা ছেলে এসে আমাকে বলে, ‘মা চা খেতে যাবে?’ আমি বুড়ি মানুষ, সকালে চা খেলে ভালো লাগবে বলে ওর সঙ্গে গেলাম। তারপর আমাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গেল। আমার উপর অত্যাচার চালায়। মারধরও করে।’
এরপর বৃদ্ধা কোনোরকমে আসেন বড় রাস্তার ধারে। তখন তার শাড়ি রক্তে ভিজে লাল। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। উৎসুক মানুষ আড়চোখে তাকালেও এগিয়ে আসেনি। তবে ক্রমশ অমানবিক হতে থাকা এই সভ্যতায় সহমর্মিতার সম্পূর্ণ মৃত্যু ঘটেনি।
বৃদ্ধা বলেন, ‘চারটি ছেলে আমার কাছে আসে। জানতে চায়, কী হয়েছে। তারপর আমাকে একটি রিকশায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’
আলোর খবর
