Tuesday , October 16 2018

প্রাথমিকে নতুন ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, জেনে নিন কবে থেকে

১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।

ডিপিই জানায়, সারা দেশে প্রায় ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়াও ২৩ হাজারের মতো সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

সরকার শিক্ষক সংকট দূরীকরণে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ফলে নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাশ এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস হতে হবে।

ডিপিই’র মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আগামী সপ্তাহের সোম বা মঙ্গলবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পুরনো নীতিমালার আলোকেই এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সে অনুযায়ী আগের সব বিষয় বহাল থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরবর্তী একমাস অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন কার্যক্রম শেষে প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার সময় জানিয়ে দেয়া হবে।

মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েও মামুন আলী টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না

কাজী কাটনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল ছোট বেলায় মামুন আলীর মেধা দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া মামুন আলীর মা মোছাঃ রেখা বেগমকে বলেছিলেন “কষ্ট করি ছোয়ালটাক পড়াশুনা করাও, ওয় ডাক্তার হবি” সেই থেকে গৃহিনী রেখা বেগমের স্বপ্ন ছেলে ডাক্তার হবে।

অবশেষে মায়ের সেই স্বপ্ন পুরণের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন হতাশায় পরিণত হতে চলেছে। একদিকে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করাতে হবে। অপরদিকে আলিম পড়ুয়া মেয়ে সাাদেকার বই কিনে দেওয়া হয়নি এখনো।

শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬ নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর সুকানদিঘী গ্রামের মেধাবী সন্তান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া মামুন আলীর মা মোছাঃ রেখা বেগম কথাগুলো বলছিলেন। মামুন আলীর পিতা হতদরিদ্র দিন মজুর কৃষক মোঃ সাঈদ আলী।

তিন ভাই বোনের মধ্যে মামুন আলী দ্বিতীয়। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট বোন মোছাঃ সাদেকা মাদ্রাসায় আলিমের ছাত্রী।

ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন এই স্বপ্ন মা মোছাঃ রেখা বেগমকে ঘুমে নয় বাস্তবে সব সময় তাড়া করে বেড়াতো। একারণে তিনি স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কাঠ কেটেছেন। শত কষ্টেও ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছেন।

কিন্তু মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর কিভাবে ছেলের ভর্তির টাকা জোগাড় করবেন তা বুঝ উঠতে পারছেন না। তাই তিনি সমাজের বিত্তবান ও সরকারকে সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামুন আলীর কাছে জানতে চাইলে সে পিতামাতার পাশাপাশি প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন ও শিক্ষকদের সহযোগীতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে জানায় এই সহযোগীতা না পেলে সে হয়তো এতদূর আসতে পারতো না।

মামুন আলী পিএসসিতে প্রথম শ্রেণী, জেএসসিতে জিপিএ ৪.৮৬, এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং পার্বতীপুর খোলাহাটি ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে, দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও মৎস্য বিভাগে চান্স পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়।

কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেনি। এবারে তার সেই স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে। তার মেধাতালিকায় ক্রমিক নং ৮৫৬। আগামী ১৭ অক্টোবর তার ভর্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

মেধাবী এই ছাত্রকে সহায়তা করার জন্য যোগাযোগ নম্বর ০১৭২২৮৪৪৯০৫। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা তার মায়ের স্বপ্ন পুরণের পথকে প্রশস্ত করবে।

যাত্রী ছাউনি এখন গোলজারের হোটেল

কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের বালাবাড়ীহাট মালেক মোড়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বৈরি আবহাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে কুড়িগ্রাম জেলা বাস মালিক সমিতির বাস ছাড়াও চিলমারী-ঢাকার বাস নিয়মিত চলাচল করে। এ পথের যাত্রীদের সুবিধার্থে বালাবাড়ীহাট মালেক মোড়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সরকারি জায়গার উপর জেলা পরিষদ ছাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত যাত্রী ছাউনি পুরোটি দখলে নিয়ে চায়ের দোকান গড়ে তুলেছেন বালাবাড়ীহাট রেলস্টেশন এলাকার গোলজার হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি যাত্রী ছাউনিতে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এ পথে প্রতিদিন শত শত মানুষ কুড়িগ্রাম জেলা সদরসহ ঢাকায় যাতায়াত করতে গিয়ে বৈরি আবহাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এ ঘটনায় মো. এন্দাদুল হক নামে এক ব্যক্তি বেদখল যাত্রী ছাউনি উদ্ধারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

আব্দুস সালাম (৩৫), শমসের আলী (৫৫), সোহরাব হোসেন (৪৫) নামে কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোদ, বৃষ্টিতে দাঁড়ানোর একমাত্র যাত্রী ছাউনিটি বেদখল হওয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বেদখল হওয়া যাত্রী ছাউনিটি উচ্ছেদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে চায়ের দোকানদার গোলজার হোসেন জানান, এর আগেও একবার পুলিশ যাত্রী ছাউনি থেকে চায়ের দোকান সরাতে বলেছিল। পরে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মৌখিক অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছেন।

মটর শ্রমিক ইউনিয়নের চিলমারী শাখার সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যাত্রী ছাউনিটি এ পথের যাত্রীদের সুবিধার্থে করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি বেদখল হয়ে আছে। যাত্রী ছাউনি উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমনটি হয়ে থাকলে যাত্রী ছাউনিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments