আকর্ষণীয় দুই পদে ৭০০ জন- পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ইতোমধ্যে শিক্ষানবিশ জুনিয়র অফিসার ও ট্রেইনি সহকারী জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে ৭০০ লোক চেয়ে বিশাল এক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনলাইনে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
লিখিত, মৌখিক ও এমসিকিউ পরীক্ষা হবে। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে প্রথমে। পরে নেওয়া ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা।
আর বাকি ২৫ নম্বর বরাদ্দ মৌখিক পরীক্ষায়। অনেকেরই প্রথম পছন্দ ব্যাংকের চাকরি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে। সম্প্রতি লোক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড।
ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে ৫০০ জন ও শিক্ষানবিশ জুনিয়র অফিসার পদে ২০০ জন লোক নেবে ব্যাংকটি। পদ দুটিতেই এক বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষানবিশ জুনিয়র অফিসারকে কমপক্ষে ৫ বছর কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডেইলি স্টারে বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়েছে ৭ অক্টোবরে।
এমনকি পাওয়া যাবে http://www.pubalibangla.com/career.asp ওয়েবসাইট এবং http://bit.ly/2E3XK88, bit.ly/2RsUOVk লিংক দুটিতেও।
আবেদনের যোগ্যতাঃ
যে কোনো বিষয়ে স্নাতক হতে হবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে আবেদনের জন্য। তবে কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা বিভাগ থাকা চলবে না। ইংরেজি ও বাংলায় ভাষা দক্ষতা থাকতে হবে।
আবেদন করতে পারবে ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ,
মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা। তবে (পূবালী ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের সন্তান) সব জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন ডিপেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে।
মাস্টার্স ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে শিক্ষানবিশ জুনিয়র অফিসার পদে। কমপক্ষে দুটি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি বা বিভাগ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি বা বিভাগ থাকা চলবে না। বাংলা, ইংরেজিতে দখল থাকতে হবে।
কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। উভয় পদে ৩১ আগস্ট সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। পূবালী ব্যাংকের কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। ট্রেইনি সহকারী জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে ডিপেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে বয়সসীমা ৩২ বছর।
আবেদন যেভাবে
আবেদন করতে হবে অনলাইনে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হবে http://www.pubalibankbd.com/vacancy/Vacancy.aspx ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে।
আবেদন ফরম পূরণের আগে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি স্ক্যান করে নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করতে হবে। নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করার পরে অ্যাপ্লিক্যান্ট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর পাওয়া যাবে। এটি সংরক্ষণ করতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি
পূবালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোট ২২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হবে। প্রথমে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে। পরে নেওয়া হবে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষার মানবণ্টন বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০, গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি ৪০ নম্বর। বাকি ২৫ নম্বর বরাদ্দ মৌখিক পরীক্ষায়।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধাঃ
মাসিক ২৫০০০ টাকা দেওয়া হবে শিক্ষানবিশ জুনিয়র অফিসার পদে শিক্ষানবিশকালে। ট্রেইনি সহকারী জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে শিক্ষানবিশ অবস্থায় পাওয়া যাবে ২০০০০ টাকা। দুটি পদেই এক বছরের শিক্ষানবিশকাল শেষে নির্ধারিত বেতন স্কেল অনুসারে বেতন দেওয়া হবে। ব্যাংকের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যাবে তখন।
যোগাযোগঃ
চোখ রাখতে হবে পূবালী ব্যাংকের ওয়েবসাইটে (http://www.pubalibankbd.com)| দরকারি তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে পূবালী ব্যাংক, মানবসম্পদ বিভাগ, প্রধান কার্যালয়, ২৬ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়।
১০টি গরু দিয়ে শুরু করে মাত্র ৪ বছরে আজ তিনি ১৭শ গরুর মালিক
মাত্র চার বছরের গল্প। তাতেই ইতিহাস। ১০টি গাভী দিয়ে যে খামারের যাত্রা, সেখানে আজ ১৭শ’র অধিক গরু। যেন রূপকথার গল্প। নিষ্ঠা, একাগ্রতা আর শ্রম দিয়ে শখের স্বপ্নকে সফলতার মাপকাঠিতে রূপ দেয়া যায়, তারই নাম ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’।
ঢাকার অদূরে বছিলায় বসেছে গরুর মেলা। মেলাই বটে। গাবতলী গরুর হাটে গিয়ে যে চিত্র মেলে ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’-এ গেলে সে চিত্রই দেখতে পাওয়া যায়। সারি সারি গরু। যত্নের কমতি নেই। সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন শতাধিক শ্রমিক। বিদ্যুৎ, পানি, বাতাসের জন্য ব্যবহার হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কংক্রিটের ড্রেনে পয়ঃনিষ্কাশন হচ্ছে মুহূর্তেই। খাবার, চিকিৎসায় জোর ব্যবস্থা।
২০১৪ সালে যাত্রা। শখের বসে পুরান ঢাকার মোহাম্মদ আলী শাহিন বাড্ডার সাতারকুলে ১০টি গাভী কিনে ডেইরি ফার্ম দেন। ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে সিঙ্গাপুর থেকে ডিগ্রি নেন শাহিন। বাইরে থেকে ডিগ্রি নিলেও চাকরির পেছনে ছোটেননি কখনও। পুরান ঢাকায় স্টিলের ব্যবসা শুরু করেন আর শখের বশে চার বছর আগে ডেইরি ফার্মে মন দেন।
ওই বছর কোরবানির জন্য পাঁচটি ষাঁড় পালনও করেন, যেগুলো নিজে এবং আত্মীয়-স্বজনরা মিলে কোরবানি দেন। এর মধ্য দিয়েই বাজারের ইনজেকশন পুশ করা গরুর মাংসের পার্থক্য বুঝতে পারেন। পরের বছর কোরবানির জন্য আরও গরুর চাহিদা আসতে থাকে শাহিনের কাছে।
চাহিদা পূরণে খামারের পরিধি বাড়াতে থাকেন। কুষ্টিয়ার হালসায় ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’-এর দ্বিতীয় শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। হাট থেকে বিভিন্ন দামে গরু কিনে কুষ্টিয়ার ওই খামারে প্রতিপালন শুরু করেন।
পরবর্তীতে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য সেগুলো ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ‘মেঘডুবি’র তৃতীয় শাখা খোলা হয়। চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগের রাতে বছিলায় গার্ডেন সিটিতে উদ্বোধন করা হয় ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’র চতুর্থ শাখা।
মূলত গার্ডেন সিটির এ শাখাই এখন মূল খামার হিসেবে বিবেচিত। এখানে প্রায় তিনশ’র অধিক গরু রয়েছে। ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকার গরুও আছে। মাত্র ৫২ কাঠা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ খামারে আধুনিকমানের সব প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে।
কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। খামারের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক মোহাম্মদ জাগো নিউজকে এমন তথ্য জানান। তেজগাঁও কলেজ থেকে পাশ করা তারেক মেঘডুবি অ্যাগ্রোর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহিনের মামাতো ভাই।
খামারের বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে তারেক বলেন, ‘মেঘডুবি’র বিভিন্ন শাখা মিলে প্রায় ১৭শ’র অধিক গরু রয়েছে। এর মধ্যে সাতারকুল শাখায় ১৮০টি গাভী রয়েছে যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ লিটার দুধ মিলছে।’
সরেজমিন দেখা যায়, সিটি গার্ডেনের নতুন খামারে চক্রকার বেশ কয়েকটি গরু বাঁধার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই বিশাল বিশাল গরু বাঁধা। শান করা ঘের। নিচেও পাকা করা। একটি গরু থেকে আরেকটি গরুর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে লোহার ফ্রেম দেয়া আছে।
আরামদায়ক বিছানার জন্য ম্যাট পাতা। মাথার ওপরে ফ্যান। পানির লাইন দেয়া প্রতিটি গরুর ওপরে। অতিরিক্ত গরম হলেই পানির সুইচ চালু করে দেয়া হয়। বৃষ্টির মতো ঝিরিঝিরি পানির ফোয়ারা তাপ নিয়ন্ত্রণ করে মুহূর্তেই। গোবর আর চোনাও (প্রস্রাব) ধুয়ে ফেলা হয় সঙ্গে সঙ্গে।
তারেকের ভাষ্য, ‘হাটের গরু নিয়ে এখন অনেক অভিযোগ। কোরবানির মাংসও অনেক সময় খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মূলত অপরিকল্পিতভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কারণে এমন হচ্ছে।
অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে গরুর মাংস নিয়ে এমন অভিযোগ। আমরা ওষুধ ব্যবহার করছি না। প্রাকৃতিক উপায়ে ভালো খাবার পরিবেশন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এখানে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।’
খামারটিতে জার্সি, হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান, উলবারি, কাংরেজ, হালিকার, গির, দেশালসহ নিজস্ব উপায়ে ব্রিড করা বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। গরুর খাদ্য তালিকায় খড়, চিটাগুড়, গম, চালের খুদ, ভুসি, ডাবলি, ছোলা, কুড়া, খৈল, ধান ভাঙা, খড়, কাঁচা ঘাস ছাড়াও শাক-পাতা জাতীয় খাবার রয়েছে।
মেঘডুবি অ্যাগ্রোর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহিনের সঙ্গে কথা হয় খামার প্রসঙ্গে। বলেন, আর দশটি খামারের সঙ্গে আপনি আমার খামারের তুলনা করতে পারবেন না। আমি এটিকে ‘প্রাকৃতিক খামার’ বলি। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এখানে গরুর পরিচর্যা করা হয়।
‘স্বপ্ন থাকলে আর কৌশল প্রয়োগ করলে যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করা যায়। যারা আমার খামার থেকে গরু নিচ্ছেন, তারাই ফের অর্ডার করছেন।’
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার গরুর মাকের্ট মূলত সীমান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি সরকারের দেখার কথা। কিন্তু আমরা দেশীয় খামারের জন্য সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখি। এ কারণে ছোট খামারিরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন।’
‘তবে আমি আশাবাদী’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষিত, তরুণ, উদ্যমীরাও এ সেক্টরে আসুক এবং রাষ্ট্র সে সুযোগ তৈরি করে দিক। মানুষ অর্থ দিয়ে ভালো এবং পছন্দসই গরু কেনার সুযোগ পাক।’
আলোর খবর
