কাজী কাটনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল ছোট বেলায় মামুন আলীর মেধা দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া মামুন আলীর মা মোছাঃ রেখা বেগমকে বলেছিলেন “কষ্ট করি ছোয়ালটাক পড়াশুনা করাও, ওয় ডাক্তার হবি” সেই থেকে গৃহিনী রেখা বেগমের স্বপ্ন ছেলে ডাক্তার হবে। অবশেষে মায়ের সেই স্বপ্ন পুরণের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন হতাশায় পরিণত হতে চলেছে। একদিকে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করাতে হবে। অপরদিকে আলিম পড়ুয়া মেয়ে সাাদেকার বই কিনে দেওয়া হয়নি এখনো।
শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬ নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর সুকানদিঘী গ্রামের মেধাবী সন্তান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া মামুন আলীর মা মোছাঃ রেখা বেগম কথাগুলো বলছিলেন। মামুন আলীর পিতা হতদরিদ্র দিন মজুর কৃষক মোঃ সাঈদ আলী।
তিন ভাই বোনের মধ্যে মামুন আলী দ্বিতীয়। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট বোন মোছাঃ সাদেকা মাদ্রাসায় আলিমের ছাত্রী।
ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন এই স্বপ্ন মা মোছাঃ রেখা বেগমকে ঘুমে নয় বাস্তবে সব সময় তাড়া করে বেড়াতো। একারণে তিনি স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কাঠ কেটেছেন। শত কষ্টেও ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছেন। কিন্তু মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর কিভাবে ছেলের ভর্তির টাকা জোগাড় করবেন তা বুঝ উঠতে পারছেন না। তাই তিনি সমাজের বিত্তবান ও সরকারকে সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামুন আলীর কাছে জানতে চাইলে সে পিতামাতার পাশাপাশি প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন ও শিক্ষকদের সহযোগীতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে জানায় এই সহযোগীতা না পেলে সে হয়তো এতদূর আসতে পারতো না।
মামুন আলী পিএসসিতে প্রথম শ্রেণী, জেএসসিতে জিপিএ ৪.৮৬, এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং পার্বতীপুর খোলাহাটি ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে, দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও মৎস্য বিভাগে চান্স পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়। কিন্তু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেনি। এবারে তার সেই স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে। তার মেধাতালিকায় ক্রমিক নং ৮৫৬। আগামী ১৭ অক্টোবর তার ভর্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
মেধাবী এই ছাত্রকে সহায়তা করার জন্য যোগাযোগ নম্বর ০১৭২২৮৪৪৯০৫। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা তার মায়ের স্বপ্ন পুরণের পথকে প্রশস্ত করবে।
আলোর খবর
