পেশায় গৃহকর্মী কিন্তু – বাসায় গৃহকর্মী থাকাটা একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই গৃহকর্মী যদি হয় লাখপতি! তার নিজের যদি থাকে দামি গাড়ি, আর পরেন লাখ লাখ টাকার গয়না তাহলে অবশ্যই বিষয়টি অস্বাভাবিক। বিষয়টি রীতিমতো সন্দেহেরও কারণ।
কলকাতায় বৃহস্পতিবার রাতে গীতা নামে এক গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তার রাজকীয় কাহিনী এখন টক অব দ্য সিটি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে ২৫ লাখ টাকার গয়নার মালিক হয়েছেন গীতা। তবে সবটাই চুরির সম্পদ। তার একটি গাড়িও রয়েছে। পুলিশের দাবি, গীতাকে ‘ডাকাত রানি’ বললেও কম হবে।
বেহালার পর্ণশ্রীর বাসিন্দা স্নেহাংশু ভট্টাচার্যের বাড়িতে সম্প্রতি চুরি হয়। বাড়ি থেকে বেশকিছু গয়নাগাটি, টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়।
এরপর স্নেহাংশু বাবু থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বাড়ির গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করেন।
প্রথমে গীতা চুরির ঘটনা অস্বীকার করেন। কিন্তু পুলিশ গীতার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে। এর আগেও ওই পরিচারিকার নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিভিন্ন থানায়। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না মেলায় প্রতিবারই ছাড়া পেয়ে যান।
এবার হঠাৎ গীতার বাড়িতে হানা দেয় নারী পুলিশ অফিসাররা। এক দিকে জেরা, অন্যদিকে শুরু হয় তল্লাশি। ঘর থেকে এক এক করে ৯৬টি সোনার গয়না পাওয়া যায়। উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মেডেল।
বাবা বললেন তোর স্বামীকে গুম করে ফেলেছি
হবিগঞ্জের বাহুবলের হাওর থেকে কাউছার মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার রউয়াইল গ্রামের হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত কাউছার মিয়া হবিগঞ্জ পৌর এলাকার উমেদনগর গ্রামের মৃত আকল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরের শায়েস্তানগর মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চার বছর আগে কাউছার মিয়া সদর উপজেলার টঙ্গিরঘাট গ্রামের মকসুদ আলীর মেয়ে সুখবানুকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন অনেকটা সুখেই চলছিল। এর মধ্যে সুখবানু ও কাউছারের সংসারে এক সন্তানের জন্ম হয়।
সম্প্রতি কাউছার মিয়ার স্ত্রী সুখবানু তার বাবারবাড়িতে বেড়াতে যান। স্ত্রীকে দেখার জন্য সোমবার রাতে কাউছার মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে সুখবানু দেখেন তার স্বামী কাউছার ঘরে নেই। এ সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, কাউছার কোথায় গেছে তারা জানে না।
একপর্যায়ে সুখবানুর বাবা মকসুদ আলী তাকে বলেন, তোর স্বামী রাতে গাছে সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আমরা নিজেরা বাঁচার জন্য তার মরদেহ গুম করে ফেলেছি। এ ব্যাপারে তুই কোনো কথা বলিস না।
এরপর সুখবানুকে তার শ্বশুরবাড়ি উমেদনগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। উমেদনগরে আসার পর কাউছারের পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান জানতে চাইলে সুখবানু তাদের জানান, কাউছার কোথাও কাজে গেছে।
তবে তাকে কিছু বলে যায়নি। ২/৩ দিন কাউছার বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় শনিবার সকালে কাউছারের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল হাসিমের কাছে সুখবানুকে নিয়ে যান।
এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে সুখবানু জানান, কাউছার তাদের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছিল। তার বাবা-মা মরদেহ গুম করে ফেলেছে। পরে কাউছারের স্ত্রী সুখবানু সদর মডেল থানায় এসে এ বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন।
এর প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান টঙ্গিঘাট গ্রামে গিয়ে কাউছারের শ্বশুর মকুসদ আলী ও তার শাশুড়ি খয়রুনেচ্ছা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ করেন।
কাউছারের শ্বশুর মকসুদ আলী পুলিশকে জানান, কাউছার গাছে সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিজেরা বাঁচার জন্য তার মরদেহ হাওরে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ রউয়াইল হাওরে গিয়ে দিনভর খোঁজাখুঁজি শেষে সন্ধ্যার দিকে কচুরি পানার নিচ থেকে কাউছারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জানান, পরিকল্পিতভাবে কাউছারকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তার গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কাউছারের শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন, প্রেমিক পলাতক
মানিকগঞ্জে বিয়ের দাবিতে দুই দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী। তবে বাড়িতে প্রেমিকা আসার পর থেকেই পলাতক প্রেমিক বিল্লাল হোসেন (২৩)।
জেলার শিবালয় উপজেলার জমদুয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আর ওই তরুণীর বাড়ি ঘিওর উপজেলার শ্রীধরনগর গ্রামে বলে জানা গেছে।
ওই তরুণী জানান, জমদুয়ারা গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে বাসচালক বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে বছর খানেক আগে এক বিয়েবাড়িতে পরিচয় হয় তার। এরপর তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো তাদের। দেখাও হয়েছে একাধিকবার।
সপ্তাহখানেক আগে পারিবারিকভাবে তরুণীর বিয়ে ঠিক করা হয় পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলায়। বিয়ের রেজিস্ট্রিও হয়েছে। কিন্তু প্রেমিক বিল্লাল বিয়েতে রাজি না হয়ে তার বাড়িতে চলে এলে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
সেই আশ্বাসেই শনিবার দুপুরে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই তরুণী। কিন্তু তাকে মেনে নিতে আপত্তি জানান প্রেমিকের বাবা-মা। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রেমিক বিল্লাল হোসেনও বাড়ি থেকে কেটে পড়েন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তরুণীকে গ্রাম্য মাতবর তাহেজ খাঁর বাড়িতে রাখা হয়েছে।
সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য তোতা মিয়া জানান, মেয়ের মা-বাবাকে খবর দেয়া হয়েছে। তবে তারা আসতে রাজি হচ্ছেন না। তারা এলেই বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আলোর খবর
