এবার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে ফেসবুক বন্ধ করতে চাইলেন আওয়ামী লীগের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
শুক্রবার রাত আানুমানিক ৮.৩০ মিনিটে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে বলে স্টাটাস দেন।
তিনি লিখেছেন ‘‘ফেসবুকে ছোট ছোট নারী শিশুদের হাতে কিসব পোস্টার দেখছি? এই কন্যা শিশুরা কাদের নোংরামীর শিকার হচ্ছে? ওরা কি জানে কি হাতে নিয়ে ওরা দাঁড়াচ্ছে-ছবি তুলছে? ওদের পিতা-মাতারা জানে? কারা এসব প্রচার করছে? আবার এর সাথে আছে সেইসব পোস্টারের প্রশংসা। ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। আমি লজ্জিত ও দুঃখিত।’’
তার এই স্টাটাসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেকেই।
ড. কামরুল ইসলাম হৃদয় লিখেছেন, মন্ত্রীত্ব এমন একটা জিনিস যা নিজের বিবেককেও নষ্ট করে দেয়। একসময় আপনি কতই না নীতি নৈতিকতার কথা বলতেন। আর আজ আওয়ামী সরকারের মন্ত্রীত্ব পেয়ে সবকিছু ভুলে গেলেন। এই ছাত্ররা যা করে দেখিয়েছে আপনাদের মত বুদ্ধিজীবিরা গত ৪৭ বছরেও তা করে দেখাতে পারেননি। সামান্য মন্ত্রীত্বের জন্য চিরজীবন ছাত্রসমাজের কাছে নিজেকে কলঙ্কিত করবেন না। ছাত্রলীগ যখন মেয়েদের ধর্ষণ করে তখন আপনার এই স্ট্যাটাসগুলো কোথায় থাকে? আর একটা কথা এ দেশের ছাত্রসমাজকে ফেসবুক বন্ধ করার মত জুজুর ভয় দেখাবেন না।
জিল্লুর রহমান সোহেল লিখেছেন, শিক্ষার্থীরা যেসব ভাষা ব্যবহার করেছে তা সমর্থন করি না। তবে মনের অনেক ক্ষোভ থেকে না বুঝে লিখেছে। ওরা জানেনা ওরা কি লিখেছে। তবে এটা ঠিক অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ন্যায়। আপনার বাস্তববাদী চিন্তা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। তবে ফেসবুক বন্ধ করে নয়। মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে দিবেন স্যার?
সুপ্রিয় হিমু নামে একজন লিখেছেন, স্যার আপনার কাছ থেকে এরকমটা আশা করি নি ! মানুষ কতটা বিক্ষুব্ধ হলে এরকম ভাষা ব্যবহার করে ভাবতে পারেন।?
জিন্নত হোসেন মিঠু লিখেছেন ভাষা ব্যবহারে অবশ্যই সংযত হওয়া দরকার। কিন্তু আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না স্যার। এ আন্দোলন অবশ্যই যৌক্তিক। আন্দোলনের সময় কিন্তু এরা অনেক বেশি সংযত ছিল।
মোঃ আবু সাঈদ লিখেছেন যেখানে ইন্টারমিডিয়েটের সহপাঠ বইয়ে লালসালু উপন্যাসে এইসব বাক্য লিখা ৷ সেখানে আন্দোলনের প্লেকার্ডের লিখা আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয় ৷ যা কিছু শিখেছি সব আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি ৷
কামরুজ্জামান লিখেছেন, ভার্সিটির গেটে নারীর নগ্ন মূর্তি থাকলে ছাত্রদের মুখ থেকে কি আতর আর গোলাপজল বের হবে?
জনাব মোস্তাফা জব্বার নিজেকে বাংলা বিজয় কি-বোর্ডের উদ্ভাবক, এমনকি বাংলাভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময় আবেগী মন্তব্য করলেও মাত্র ৬ লাইনের এই ফেসবুক স্ট্যাটাসে অন্তত দু’টি সহজ বানান ভুল করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে এরই মধ্যে সরকারের এমপি মন্ত্রী সরকার দলীয় নেতারা নানান আপত্তিকর কথাবার্তা বললেও মোস্তাফা জব্বার ছিলেন নীরব। কিন্তু আজ তিনি নিজেকেও জড়ালেন এই বিতর্কিত স্ট্যাটাসের মধ্য দিয়ে।
আলোর খবর
