ফেরি সঙ্কটে আটকে থাকা- শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাটের শরীয়তপুর অংশের নরসিংহপুর আলুরবাজার ফেরিঘাটে যানজট, খাবার সঙ্কট ও তীব্র গরম ও ফেরি সংকটের কারণে গত তিন দিনে ১৫টি গরু মারা গেছে।
তীব্র গরম, যানজট ও খাবার সঙ্কটে কোরবানির পশুগুলো অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। আটকে থাকা বাস যাত্রী, ট্রাক চালক ও ট্রাকের হেলপাররা প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। এক সাথে ২ শতাধিক যানবাহনের চাপ থাকায় খাবার সঙ্কট দিয়েছে ফেরিঘাট এলাকায়। এ সঙ্কট কাটাতে ব্যবসায়ী ও গাড়ি চালকরা সরকারের কাছে এ ঘাটে ফেরি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত দুই তিন দিন যাবত কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় ও ডুবোচরের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও মালবাহী ট্রাক শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি পার হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত শুরু করে। কোরবানি উপলক্ষে শত শত গরুর ট্রাক এখন অবস্থান করছে আলু বাজার ফেরিঘাটে।
শরীয়তপুরের নরসিংহপুর আলু বাজার ফেরিঘাটে করবী, কুসুমকলি ও সর্বশেষ আজ শুক্রবার যুক্ত হয়েছে মাওয়া ফেরিঘাট থেকে আসা কেতকি নামক একটি ফেরি। মাত্র এই তিনটি ফেরি দিয়ে গাড়িগুলো পারাপারের কারণে প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফেরি সঙ্কটের কারণে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ২ শতাধিক ছোট বড় যানবাহন।
শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত আলু বাজার ফেরিঘাট প্রান্তে গরমে ঝিনাইদাহ ও সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী গরু ব্যবসায়ীদের ১৫টি গরু মারা গেছে।
গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন প্রচণ্ড তাপদাহ ও খাবার সংকটে অসুস্থ হয়ে গরুগুলো মারা যাচ্ছে। গাড়িচালক ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘাটে আরো অন্তত ৩টি ফেরি দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ থেকে চট্টগ্রামগামী গরু ব্যবসায়ী মোঃ রেজাউল করিম বলেন, আমার গরু গুলো শুধুমাত্র ফেরি সংকট, তীব্র গরম আর খাবার সঙ্কটের কারণে আমার ৪টি গরু মারা গেল।
সাতক্ষিরা থেকে ফেনিগামী গরুর মালিক মোঃ সালাহউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কয়েক জনে মিলে পশুগুলো নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ফেনী যাচ্ছিলাম, আমাদের ৭টি গরু আমাদের চোখের সামনেই মারা যায়। অথচ আমরা কিছুই করতে পারলাম না। আমরা গরিব মানুষ, এখন আমরা এ ক্ষতি কি ভাবে পোষাব?
শরীয়তপুর আলুর বাজার ফেরিঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার জানান, আলুর বাজার- হরিণাঘাটে মাত্র দুটি ফেরি ছিল, আজ আরো একটি ফেরি যোগ হয়ে প্রতিদিন এক শ’ থেকে এক শ’ বিশটি গাড়ি পারাপার হতে পারবে। এতে শিগগিরই চাপ কমে যাবে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ফেরিঘাটে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন আছে। বৃহস্পতিবার একটি গরু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এ ছাড়া গরু মারা যাওয়ার কোনো সংবাদ বা অভিযোগ পাইনি।
আলোর খবর
