গেলো ২৭ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছিলো জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত কলকাতার ছবি ”চালবাজ”। ছবিটি নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও দর্শকদের মনে একটা বাড়তি আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই। এর কারণ ছিল দুটি : এক – দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে শাকিব খানের ছবি মুক্তি ও দুই – শাকিব অভিনীত প্রথম কলকাতার ছবি।
এর বাইরে অবশ্য আরো একটি হিসাব ছিল। আর তা হলো বাংলাদেশে অতীতে ভারতীয় বাংলা ছবির তেমন কোনো সাফল্যের রেকর্ড না থাকা। তবে ”চালবাজ” ওপার বাংলার ছবি হলেও বাংলাদেশের শাকিব খান নায়ক হওয়ায় এই ধারা ভাঙতে পারে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেন।
চলুন জেনে নেয়া যাক তিন দিনের সেল রিপোর্ট অনুযায়ী মুক্তির পর কতটা সফল হয়েছে ”চালবাজ”’।
শাকিব খান অভিনীত এই ছবিটির মুক্তির প্রথম দিনে হলগুলোর দুটি-তিনটি শো ছিল হাউসফুল। কিন্তু দ্বিতীয় দিন শনিবার এসে দর্শক সংখ্যা অর্ধেকে নেমে যায়। আবার কিছু কিছু হলের দর্শক সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের চিত্র এমনটাই লক্ষ্য করা যায়।
এ বিষয়ে হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন,”শুক্রবার খুব ভালো গিয়েছে ”চালবাজ”। শনিবার এসে এর সেল রিপোর্ট অর্ধেকে নেমে গিয়েছে। রবিবার আবহাওয়া ভালো না থাকায় দর্শক আরো কমে গিয়েছে।”
এদিকে শ্যামলী হলের ম্যানেজার হাসান বলেন, ”আমাদের হলে ভালো ছবি ৮০-৯০ হাজার টাকার টিকেট সেল হয়। ”চালবাজ” ছবিটি মুক্তির পর শুক্রবার ভালোই সেল হয়েছে। কিন্তু শনিবার এসে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। ৪০-৫০ হাজার টাকার মতো সেল হচ্ছে। রোববার এর অবস্থা আরো খারাপ। হলে দর্শক সংখ্যা খুব বেশি নেই।
বলাকা হলের ম্যানেজার আখতার জানালেন,”বলাকা হলে শাকিব খানের ছবি খুব বেশি কখনই চলেনি। তাই ”চালবাজ” ছবিটির দর্শক সংখ্যাও তুলনামূলক কম।”সাফটা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযোজক গোলাম কিবরিয়া লিপু এন ইউ ট্রেডার্সের ব্যানারে ছবিটি আমদানি করেন।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমরা এখন পর্যন্ত যে হিসেবে পেয়েছি তাতে ”চালবাজ” ভালো যাচ্ছে। আমদানিকারক হিসেবে আমি খুশী। কারণ বাংলাদেশে ঈদ ছাড়া শুক্রবারের পরে সব ছবির সেল রিপোর্ট অর্ধেকে নেমে যায়। ”চালবাজ”র সেল রিপোর্ট শুক্রবার ভালো ছিল।
শনিবার থেকে ৪০ ভাগ ৩০ ভাগে নেমে এসেছে। আর কাল হয়তো আবহাওয়ার কারণে সেল খারাপ গিয়েছে।””চালবাজ” ছবিটির দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে ছবিটির গল্পকেই দায়ী করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চলচ্চিত্রের মন্দার বাজারে হলের অর্ধেক টিকেট বিক্রি হওয়াটাকেও কিছুটা স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন হলমালিকগণ।
কেননা চলতি বছরে মাত্র কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে দু-একটি ছবির সেল রিপোর্ট মোটামুটি গিয়েছে। বাকি সব ছবির সেল রিপোর্ট ছিল খুবই খারাপ। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত বলা যায় এ বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির হিসেবে ”চালবাজ” মোটামুটি ভালো হলেও শাকিব খানের ছবি হিসেবে তা সন্তোষজনক নয়।
উল্লেখ্য,গত ২০ এপ্রিল কলকাতায় মুক্তি পায় ”চালবাজ” ছবিটি। জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত এ ছবিটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী। ছবিটি মুক্তির পর কলকাতার গণমাধ্যম ছবিটির গল্পের দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা করে।
কলকাতার একটি গণমাধ্যমে বলা হয়,”অনেকগুলো বলিউডি রোমান্টিক কমেডি ছবি থেকে কিছু-কিছু ঘটনা তুলে যদি একটা গল্প বানানোর চেষ্টা হয়, আর সেটা যদি মিশে যায় দুর্বল অভিনয় ও একই ধরনের সংলাপের সঙ্গে, তা হলে যা তৈরি হয়, সেটাই হলো চালবাজ।”
এছাড়া ছবিটি কলকাতার দর্শকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়। এতে শাকিব-শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের শাহেদ আলী, রেবেকা, সুব্রত, কলকাতার আশিষ বিদ্যার্থী, খরাজ মুখার্জি, রজতাভ দত্ত প্রমুখ।