Monday , October 22 2018

আওয়ামীলীগ প্রেমী সাজু’র জীবনের শেষ চাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত

আওয়ামী লীগ সংগঠনকে এতই ভালোবাসেন যে নিজ শিশু সন্তানটির নাম রেখেছেন জাহিদুল ইসলাম আওয়ামীলীগ। এই নামে জন্ম নিবন্ধন করার পর এক ব্যাক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) ছাড়লে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এলাকায় আওয়ামী লীগ পাগল এক নামে পরিচিত দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম সাজু । একাধিকবার সাইকেল চালিয়ে ঢাকায় গনভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেন্ত্রী, বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করতে যান তিনি, নিরাপত্তার কারনে বার বার তিনি ফিরে এসেছেন কিন্তু হাল ছাড়েননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীকে মা ডেকে একটি বার দেখা করার আকুতি জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

সরজমিন গিয়ে জানাযায়, নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের কাদির হানিফ গ্রামের মৃত আবু তাহেরের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম সাজু(৩৫) তার বাপ দাদার অস্তিত্বে মিশে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগি কর্মি। তার দাদা মরহুমার আলী আহাম্মদ মাষ্টার জীবনের শেষ মুহুর্তটুকু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগিকর্মি ছিলেন, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে অনেক নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, সাজু পেশায় একজন মুরগী ব্যবসায়ী সংসারে মা ২ সন্তান স্ত্রী নিয়ে কোন রকম দিনচলে তার, কিন্তুু তার আওয়ামী সংগঠনের জন্য নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে নৌকা বানিয়ে এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান সহ অনেক নেতা কর্মিদের নৌকা বানিয়ে উপহার দেন। ভোট এলেই নিজের টাকা খচর করে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার প্রচারনা চালান তিনি।

এলাকায় এবং নোয়াখালী তার পরিবারকে এক নামে আওয়ামী লীগ পরিবার নামেই চেনে। ১৭ নভেম্বর ২০১৬ সালে তার ঘরে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়, সাজু তার ছেলের নাম রাখেন জাহিদুল ইসলাম আওয়ামীলীগ। এই নামটি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে নোয়াখালীতে। জাহাঙ্গীর আলমের সাথে আলাপ কালে তিনি আবেগে চোখের পানি ছেড়ে কেঁদে উঠে বলেন “আমার বাপ দাদা আওয়ামী লীগের জন্য তাদের শ্রম ঘাম দিয়ে গেছেন বিনিময়ে কিছুই চাননি, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল শেখ হাসিনাকে একটিবার সরাসরি দেখার, আমি ও আমার সব শ্রমঘাম দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে হৃদয়ের মাঝে লালন করি, আওয়ামী লীগের প্রতিটি সভা সেমিনার, জনসভায় আমার উপস্থিতি সবার আগে, আমি বঙ্গকন্যা বাংলার কোটি কোটি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনাকে মা ডেকেছি, আমার জীবনের শেষ চাওয়া একটিবার আমার মায়ের সাথে সাক্ষাত করতে চাই, তিনি আরো বলেন, “আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সস্তান কিন্তুু অনেকে ভাবতে পারেন আমি আমার মায়ের সাথে কোন স্বর্থ উদ্ধারের জন্য তার সাথে দেখা করতে চাই কিন্তুু আপনারা বিস্বাস করুন আমি শুধু আমার মায়ের সাথে একটিবার দেখা করতে চায়, তার পায়ে একটি সালাম দিতে চাই, আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মি হিসেবে এটাই আমার জীবনের শেষ চাওয়া”

সাজুর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী আওয়ামী লীগের জন্য পাগল তার এ এসব কান্ডে অনেকেই তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্রা করেন কিন্তু আমি আমার স্বামীকে নিয়ে গর্বভোধ করি। আমার স্বামী কোন মাদকের পাগল নয়, কোন খারাপ নেশার পাগল নয়, টাকা পয়সার পাগল নয়, সে শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একটি বার দেখা করতে চাই এতে দোষের কি? আমি আমাদের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তিনি যেন আমার স্বামীর শেষ আশাটুকু পূরনে এগিয়ে আসেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন সাক্ষাত দিয়ে আমার স্বামী তথা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারটিকে শেষ চাওয়াটুকু পূরন করেন।

কাদির হানিফ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি রহিম চৌধুরী সাথে এই ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাজু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য পাগল তার বাপ দাদারাও এই সংগঠনের ত্যাগি কর্মি ছিলেন, তার ছেলের নাম জাহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নামে জন্ম নিবন্ধন করতে এলে প্রথমে আমরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করি , পরে তার আগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ হই এবং তার ছেলের নাম জাহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ দিয়ে নিবন্ধন করি। আওয়ামী লীগের জন্য একটি ছেলে এত পাগল হয় আমার দেখা সাজুই একমাত্র ব্যাক্তি। আমি আমাদের মমতাময়ী মা সকলের প্রাণপ্রিয় নেন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করছি যেন তিনি একটি বার সাক্ষাত করে এই পরিবারের শেষ আশাটি পূরন করেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর

Facebook Comments