স্থুলতা বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা। একদিকে বিশ্বের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে, আর অন্যদিকে বিশ্বের কিছু মানুষ ভুগছে মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যা। স্থুলতার অন্যতম বড় কারণ প্রয়োজন ছাড়াও খাবার খাওয়া। এই সমস্যা যে কেবল বড়দের আছে তা কিন্তু না, ছোট ছোট বাচ্চারাও এই সমস্যায় আক্রান্ত। আমরা আজ শোনাবো পাঞ্জাবের এক শিশুর গল্প, যার বয়স আট মাস এবং ওজন ৩০ কেজি!
জানি এটা বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু আপনি যা পড়েছেন তা একদম সঠিক। চাহাত নামের আট বছরের মেয়েটি স্থুলতার সমস্যায় ভুগছেন তার অতি খাওয়ার অভ্যাসে কারণে। এটাই শেষ না, চাহাতের ওজন দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে!
এটা আসলেই অবাক করার মত বিষয়, তার ওজন একটা ৪ বছরের বাচ্চার ওজনের সমান কিন্তু তার বয়স এখনও আট মাস। তার বাবা মা এবং ডাক্তার কোন ভাবেই এই ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বরং তারা এটার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করছেন।
তথ্য অনুযায়ী চাহাত যখন জন্ম নেয় তখন তার ওজন স্বাভাবিক বাচ্চার মতই ছিলো, তার বাবা সুরাজ কুমার বলেন, ”যখন চাহাতের জন্ম হয় তখন সে স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতই ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তার ওজন বাড়তে থাকে! দিনে দিনে তার ওজন বাড়তে থাকে, এখানে আমাদের কোন দোষ নাই। সৃষ্টিকর্তা তাকে এমন বানিয়েছেন, এটা তার ইচ্ছা। মাঝে মাঝে খারাপ লাগে অনেকে তাকে দেখে হাসাহাসি করে।”
দুঃখের বিষয় হলো তার এই অতিরিক্ত ওজনের কারণে সে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়।
অপরদিকে চাহাতের আরেকটা সমস্যা আছে আর তা হলো তার চামড়া স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক পুরু। স্বাভাবিক বাচ্চাদের তুলনায় তার চামড়া অনেক মোটা ফলে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষার জন্য তার শরীর থেকে রক্ত নিতে পারতো না!
চাহাতের ডাক্তার বাসুদেব শর্মা বলেন, ”আমরা অনেকবার চেষ্টা করেও তার শরীর থেকে রক্ত নিতে পারিনি। তার অতিরিক্ত মোটা চামড়ার কারণে তার রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।”
চাহাত পাঞ্জাবের এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এমনিতেই নাজুক তার উপর তার বাবা মা আগেই আরেক সন্তান হারিয়েছে জন্মের সময়।
চাহাতের মা রীনা বলেন, ”আমার প্রথম সন্তান জন্মের সময় মারা যায়, এখন আমি চাহাতের স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তিত। সে স্বাভাবিক বাচ্চাদের মত খায় না, সে যখন খায় খেতেই থাকে। খাওয়া শুরু করলে থামতেই চায় না এবং খাবার না দিকে কান্না শুরু করে। সে বাইরে যেতে চায় কিন্তু নিজের ওজন সে তুলতে পারে না। আমরা তাকে বাড়ির আশেপাশে নিয়ে যাই।”
তার বাবা মা এবং ডাক্তাররা চান চাহাত একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। তারা তাকে স্বাভাবিক জীবন দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তাদের সেটা কুলিয়ে উঠতে দিচ্ছে না।
আমরা সবাই আশা করি চাহাত একটা সুন্দর জীবন লাভ করুক। সবচেয়ে মোটা বাচ্চার খেতাব থেকেও মুক্তি পাক।
আলোর খবর
