Monday , October 8 2018

নেশা দ্রব্য খাইয়ে কলেজ ছাত্রীর সাথে যৌন মিলন!

বগুড়ায় নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহিনুর রহমান শাহিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম তাকে শহরের চারমাথা এলাকা থেকে থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর মামলায় শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্যাতিত ওই কলেজছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেফতার শাহিন বগুড়া শহরের কাটনারপড়া এলাকার ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

নির্যাতিত ছাত্রী জানান, তিনি বগুড়ার পার্শ্ববর্তী জেলার একটি কলেজে অনার্সে পড়ছেন। তবে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে বগুড়া শহরেই ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রায় ৬ মাস পূর্বে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শাহিনুর রহমান শাহিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি শাহিনকে ‘আঙ্কেল’ বলেই ডাকেন। বিভিন্ন সময় শাহিন তাকে ফোন করে খোঁজ-খবর নিতেন এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজনে তাকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার এক বন্ধুকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তিনি শাহিনকে ফোন দেন। শাহিন তাকে সন্ধ্যার দিকে শহরের উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় যেতে বলেন। তার কথামত ওই এলাকায় যাওয়ার পর শাহিন তাকে কালো রঙের জিপ গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর মহিলা কলেজ এলাকা থেকে মতিউর রহমান নামে তার আরও এক সহযোগীকে তুলে নিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে শহরের ফুলতলা এলাকায় ‘সিয়েস্তা’ নামে একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

এসময় তিনি বাসায় ফিরতে চাইলে শাহিন তাকে বাধা দেয় এবং একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। এরপর তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করে। পরে তিনি কৌশলে শাহিনকে ওই কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি অটোরিকশায় বাসায় ফিরে যান। তবে কাউকে কিছু না বলে শুধু কান্নাকাটি করতে থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। দু’দিন পর তিনি তার বাবা-মা’কে ঘটনাটি খুলে বলেন।

বগুড়ায় ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থল শাজাহানপুর থানা সীমানায় হওয়ায় নির্যাতিত কলেজছাত্রী বাদী হয়ে ওই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মতিউর রহমান নামে শাহিনের এক সহযোগীকেও আসামী করা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, তার থানায় মামলা হলেও পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

Facebook Comments