সেরাদের পুরস্কার – টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে পরাজয় ছিল স্বপ্নভঙ্গের কষ্টে মোড়া। তবে এরকম হারের পরও একটি বড় প্রাপ্তি হল লিটন দাসের ব্যাটিং। অফ ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান বড় স্টেজে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন, তা এক কথায় প্রশংসনীয়। স্বাভাবিকভাবেই তাই ম্যান অব দা ফাইনালের পুরস্কারটি নিজের করে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ওপেনার।
তার ১১৭ বলে ১২১ রানের ইনিংসটি অনেক দিন মনে রাখার মত। বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাণ জাগানো শতকের পথে মেরেছেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। মেহেদি হোসেন মিরাজের সাথে লিটনের ১২০ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপের পর আর দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। মিডল অর্ডারদের একের পর এক আত্মহত্যায় শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।
এদিকে পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ও ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের সুবাদে ভারতের শেখর ধাওয়ান পেয়েছেন ম্যান অব দা সিরিজের পুরস্কার। নিজের অনুভূতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি দলকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়ার। পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো খেলার ইচ্ছে ছিল। সেটা পূরণ হওয়ায় ভালো লাগছে। এজন্য ধন্যবাদ দিতে চাই পুরো টিমকে। একইভাবে ওপেনিং পার্টনার রোহিত শর্মাকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। ওর সাথে আমার জুটিটায় ছিল অনেক ভালো সমঝোতা।
লড়াকু হারের পর যা বললেন মাশরাফি
এশিয়া কাপের ফাইনালে লড়াই করেও অল্পের জন্য হারতে হল বাংলাদেশকে। এমন বড় স্টেজে জয়ের সুযোগ বারবার আসেনা। মানসিক চাপ আর অপরিপক্কতার কাছে এভাবে হেরে যাওয়ার পর আক্ষেপ ও হতাশা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কষ্টের মাঝেও স্বীকার করে নিলেন নিজেদের দায়, ‘আসলে এটা অনেক কঠিন ম্যাচ ছিল। তবে ব্যাটিংয়ের সময় আমরা অনেকগুলো ভুল করেছি। একই কথা প্রযোজ্য বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও। আমাদের আরো ভালো করা উচিত ছিল’
দলের বোলারদের ভালো বোলিং করা প্রসঙ্গে জানালেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত। কিছু ভুল ছিল। তারপরও বলতে চাই যে বোলাররা অসাধারণ ছিল।’ ভারতকে শক্তভাবে চেপে ধরা প্রসঙ্গে বললেন, ‘২২২ রানের পুঁজি নিয়ে ওদের থামানো কঠিন ছিল। তবে আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চটাই। ওদেরকে আটকে রাখার বিষয়ে আমরা তৎপর ছিলাম।’
শেষ ওভারে বোলিং নিয়ে জানালেন, ‘মোস্তাফিজ বা রুবেলের ওভার ছিল না। ফলে মাহমুদুল্লাহকেই ভালো অপশন ভেবেছিলাম আমরা। তবে হয়তো পেসারদের ওভার থাকলে অন্য কিছু ঘটতে পারত। যা হয়নি, তা বলে লাভ নেই।’সবমিলিয়ে কষ্টের মাঝেও ভালো একটি মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। হয়তো এই লড়াই আগামীতে টাইগারদের আরো ভালো করতে উৎসাহিত করবে, এ আশা করাই যায়।
বিতর্কিত ফাইনালে কোনোমতে জিতল ভারত
এশিয়া কাপের টানটান উত্তেজনাকর ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরে ভেঙ্গে গেল বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। সপ্তমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। অন্যদিকে তৃতীয়বারের মত ফাইনাল খেলেও শিরোপা বঞ্চিত হল টাইগাররা। দুবাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ২২৩ রানের লক্ষ্যকে ৩ উইকেট হাতে নিয়েই টপকে যায় ভারত। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন রোহিত শর্মা। এছাড়া ৩৭ রান এনেছে দিনেশ কার্তিকের ব্যাট থেকে।
এর আগে বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের সাদামাটা লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা সাবধানে করলেও চাপে পড়ে ভারত। ভালোই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় নাজমুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন ১৫ রান করা শেখর ধাওয়ান। এরপর আমবাটি রাইডুকে মাত্র ২ রানেই বিদায় করেন মাশরাফি। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো ভারতকে এরপর এগিয়ে নিতে থাকেন অদিনায়ক রোহিত শর্মা ও দিনেশ কার্তিক। তবে ৮৩ রানে রুবেল হোসেন রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে যায় ভারত।
এরপর দিনেশ কার্তিক ও ধোনির জুটিতে এগোতে থাকে ভারত। মাহমুদুল্লাহর বলে কার্তিক আউট হন দলীয় ১৩৭ রানের। ১৬০ রানের মাথায় ধোনিও বিদায় নিলে চাপে পড়ে ভারত। কেদার যাদব আহত হয়ে অবসর নেন একটু পর। ফলে জাদেজা ও ভূবনেশ্বরের উপর এসে পড়ে বিশাল দায়িত্ব। এই দুজন বুঝে শুনে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন ভারতকে। জয় থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকা অবস্থায় রুবেলের অসাধারণ বলে জাদেজার পতন হলে আরো একবার জমে ওঠে খেলা। এরপর মোস্তাফিজের ম্যাজিকে বিদায় নেন ভূবনেশ্বরও। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১১ বলে ৯ রান। ভারত। বাকি পাঁচ বলে তিন রান এলে শেষ ওভারে দরকার হয় ৬ রান। মাহমুদুল্লাহর সেই ওভার থেকে প্রয়োজনীয় রান তুলতে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয় ভারতকে। কেদার যাদব ও কূলদীপের কৃতিত্বে সেই রান পায় তারা।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপের পর আর দাঁড়াতে পারেনি সোজা হয়ে। মিডল অর্ডারদের একের পর এক আত্নহত্যায় শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন লিটন। এছাড়া ৩৩ রান করেছেন সৌম্য সরকার। ভারতের পক্ষে ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন কূলদীপ যাদব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২২৫/৭ (৫০ ওভারে)
রোহিত ৪৭, শেখর ধাওয়ার ১৫
রুবেল ২/১৯, মোস্তাফিজ ২/৩৮
বাংলাদেশ: ২২২/১০ (৪৮.৩ ওভারে)
লিটন দাস ১২১, মিরাজ ৩২,
কূলদীপ ৩/৪৫
দুইদলের একাদশ:
বাংলাদেশ:
লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মিথুন আলি, মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হোসেন মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু
ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা(অধিনায়ক), শেখর ধাওয়ান, আমবাটি রাইডু, মহেন্দ্র সিং ধোনি, দিনেশ কার্তিক, কেদার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, ভূবনেশ্বর কুমার, কূলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, জসপ্রিত বুমরাহ
আলোর খবর
