পেট পরিষ্কারের এক ঘরোয়া – কথায় আছে মানুষের স্বাস্থ্যই সম্পদ। আর এই স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে তাহলে শুধুমাত্র শরীরে সমস্যা দেখা দেয় সেটা নয়, তার সঙ্গে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মানসিক শান্তি নষ্ট হয়। অনেক সময় আমরা শরীরে ছোট ছোট সমস্যা গুলির উপর নজর দিই না, যার ফলে সমস্যা আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল পেটের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যতা।
মানব শরীর থেকে যদি বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে না যায় তাহলে সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় একাধিক সমস্যা। তাই সকলের পেট পরিস্কার হওয়া ভীষন দরকার। অনেকেই পেটের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে তাদের পরামর্শ মেনে চলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয় ঠিকই, তবে পেটের ভিতর থাকা খারাপ ব্যক্টেরিয়ার সাথে ভালো ব্যক্টেরিয়াও মারা যায়। এতে শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পরে।
প্রাচীনকালে এতো ওষুধ ছিল না, তখন কোন অসুখ হলে ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমেই রুগিকে সুস্থ করা হত। আর এই ধারা এখনোও কিছুটা অব্যহত আছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহন করার আগে ঘরোয়া উপায়ের সাহায্য নেওয়া উচিৎ। ঘরোয়া ওষুধের উপাদানগুলি শরীরের কোন ক্ষতি করেনা। কিন্তু অত্যাধিক পরিমানে খাওয়া অ্যালোপ্যাথি ওষুধে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করেই সুস্থ হয়ে উঠুন।
আমাদের ঘরেই এমন কিছু জিনিস আছে যা দিয়ে লিভার ও মলাশয় পরিষ্কার করা সম্ভব, আর এইসব ঘরোয়া পথ্যগুলি ভালো ব্যাকটেরিয়াদের বিনাশ করেনা। এমনিতে ইসবগুল বা সহজপাচ্য খাবার, বিভিন্ন ধরনের শাক, মোচা পেট পরিস্কার করতে সক্ষম। তবে দ্রুত আরোগ্য লাভে এই পথ্যটি আপনাকে আরও বেশি সাহায্য করবে। জেনেনিন কি কি উপাদান দিয়ে এটি বানাবেন ঃ-
উপকরন ঃ-
আপেলের রস – হাফ কাপ
লেবুর রস – হাফ কাপ
সামুদ্রিক লবন – হাফ চামচ
আদার রস – এক চামচ
জল – অর্ধেক গ্লাস
পথ্যটি খাওয়ার সময় ঃ-
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, দুপুরে খাবার আগে, রাতে শুতে যাওয়ার আগে দু-চামচ করে খেয়ে নিন। এই মিশ্রণটি খেতে শুরু করলে পেট পরিস্কার হতে শুরু করবে।
পথ্যটি খাওয়ার সময়কাল ঃ–
টানা সাতদিন ধরে তিনবার করে এই মিশ্রণ খেতে হবে।
পথ্যটি বানানোর পদ্ধতি ঃ–
প্রথমে গরম জল ফুটিয়ে নিন। এরপর ফুটন্ত জলে পরিমানমতো লবন মিশিয়ে নিন। লবন জলে সম্পূর্ণ মিসে গেলে আঁচ বন্ধ করে দিন। এবার একে একে আপেলের রস, লেবুর রস, আদার রস ভালো করে মেশান। মিশ্রনটিকে অন্য পাত্রে রেখে ঠান্ডা করুন।
মাথায় রাখবেন যদি প্রতিদিন এটি খাওয়ার সময় সাথে দুপুরে এক বাটি দই খেতে পারেন তবে আরও ভালো কাজ দেবে। শরীরে হজম ক্ষমতার বৃদ্ধি পাবে।
যখন পেটের সমস্যা দূর হতে থাকবে তখন স্যালাড খান। এই রকম সমস্যা দেখা দিলে ধূমপান মদ্যপান থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।
এই তথ্যগুলি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন, আপনিও জানুন তাদেরকেও জানান।
আলোর খবর
