রাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু তাই বলে কথায় কথায় রেগে আগুন হয়ে যাওয়া কোনো ভালো লক্ষণ নয়। গবেষণা বলছে, অতি রাগান্বিত ব্যক্তিদের কম বয়সে হাই ব্লাড প্রেশার, হার্ট অ্যাটাক, ইস্কিমিয়া ও অন্যান্য হৃদরোগের আশঙ্কা স্বাভাবিক রাগী মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ। আর হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি।
তবে একবারেই রাগ করতে পারবেন না, ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। কিছু বিষয়ে অল্প-স্বল্প রাগ সবাই করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাত্রাছাড়া ক্রনিকালি রেগে গেলেই বিপদ বাড়বে আপনার।
রক্তে C Reactive protein বা CRP বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণা বলছে, যাদের রাগ বা ডিপ্রেশন খুব বেশি তাদের রক্তে এই উপাদান বেড়ে যায়। অন্যদিকে এটাও জানা গেছে, যাদের মধ্যে রাগ ও অন্যান্য নেগেটিভ ইমোশন বেশি তারা স্বাস্থ্য অসচেতন হয়ে থাকে।
রুটিন মেনে জীবন যাপন বা ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার আগ্রহ কম থাকে এদের। উল্টো দিকে ধূমপান, মদ্যপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেই তারা অভ্যস্ত। মানসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত রাগ মানুষকে একা করে দেয়। বাড়িয়ে দেয় ডিপ্রেশন যা থেকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা আরো বাড়ে।
এখন আসি এই রাগ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার কথায়। দিস্তায় দিস্তায় কাগজ ভরিয়ে ফেলা যাবে কিন্তু সবার আগে নিজেকেই বুঝতে ও বুঝাতে হবে- এতো বেশি রাগ ভালো নয়। যে ব্যাপারগুলোতে আপনার রাগ হচ্ছে সেই সব ব্যাপারে অনেকেই মাথা ঠান্ডা রাখছে নানা উপায়ে।
প্রথমত যেসব ঘটনায় খুব বেশি রাগ হয় সেসব ঘটনা এড়িয়ে চলতে হবে। ঠান্ডা মন নিয়ে জোর করে ভাবার চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে কথা দিতে হবে, যাই ঘটে যাক শুধু দেখবেন, শুনবেন কিন্তু কথা বলবেন না।
চেষ্টা কাজে না এলেও হতাশা না বাড়িয়ে অন্য কোথাও, বাইরে বা নিদেনপক্ষে পাশের রুমে হেঁটে আসতে পারেন। রাগের সময় অন্য কোনো পছন্দের বিষয় নিয়ে ভাবতে বসে পড়তে পারেন। মেডিটেশন, যোগব্যায়ামের মতো বিষয়গুলো আয়ত্ব করা যেতে পারে।
চাহিদা, মেনে নেয়ার মানসিকতা, হতাশা, দুঃখ সহজভাবে মেনে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। এগুলো যেন রাগের আড়ালে চাপা না পড়ে। তাই নিজের জন্য হলেও রাগ কমান, নয়তো খারাপ এই অভ্যাসের কারণে সাধের জীবনটাই পড়ে যেতে পারে হুমকির মুখে।
আলোর খবর
