Sunday , September 16 2018

দিনে দর্জি, রাতে ভয়ঙ্কর খুনি !পড়ুন ভয়ংকর এক কাহিনী

দিনে দর্জি- দেশে -বিদেশে প্রতিনিয়ত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে ।তবে কেউ কেউ এই খুনকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এমনি এক ভয়ংকর খুনির চিএ সামনে এলো। জানা গেছে দেখে বোঝার উপায় নেই। দিব্যি লোকটা সকাল থেকে দোকান খুলে দর্জিগিরির কাজ করে যেত। নিপাট ভদ্র মানুষ বলেই সকলে চেনে তাকে। কিন্তু এই লোকটা-ই যে একটা সিরিয়াল কিলার তা কেউ কখনও জানতে পারেনি।

তার খুনি পরিচয় সামনে আসে যখন আদেশ খামরাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আদেশ খামরা নামে এই দর্জির বিরুদ্ধে একটি দুটি নয়, ৩৩টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে।

ভয়ানক এই খুনিকে গান-পয়েন্টে রেখে গ্রেফতার করেন এশিয়ান গেমসে জুডো-তে ব্রোঞ্জ জয়ী মহিলা খেলোয়াড় বিট্টু শর্মা। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে পুলিশ সুপার পদে কর্মরত তিনি।

ভোপালের এক ঘিঞ্জি এলাকায় একটা ছোট টেইলারিং-এর দোকান চালাত আদেশ। কিন্তু রাত হলেই কাঁধে কুড়ুল চাপিয়ে নেমে পড়ত খুনের নেশায়। আর তার প্রতিটি খুনেরই শিকার ট্রাক চালক এবং তাদের খালাসিরা। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে অমরাবতীতে প্রথম খুন করে আদেশ। এরপর নাসিকেও সে এক ট্রাক চালককে খুন করেছে বলে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দাবি।

গত কয়েক বছর ধরেই এমন ৩০টি খুনের কেসে নাজেহাল হয়ে যায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। এই ঘটনায় খুন হওয়ারা সকলেই ছিল ট্রাক চালক। তদন্তে পুলিশ এটাও বুঝতে পারে খুনগুলো এক ব্যক্তিরই করা।

মধ্যপ্রদেশের যেখানে যেখানে এই খুনের ধারার সঙ্গে মিল থাকা হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছিল পুলিশ সেই ফাইলগুলোকে পুনরায় খোলে। কারণ, এই সব খুনের সন তারিখ দেখে পুলিশ বুঝতে পেরেছিল এটা কোনও সিরিয়াল কিলারের কাজ এবং সে এখনও এই এলাকার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং তাকে অতি শীঘ্রই ধরা না গেলে খুনের সংখ্যা আরো বাড়বে।

জানা গিয়েছে বিহার ও উত্তর প্রদেশে গিয়েও ট্রাক চালকদের খুন করে এসেছে আদেশ। ভোপাল পুলিশের এলিকাতে সম্প্রতি দুই ট্রাক চালক খুন হন। সেই ঘটনারই তদন্তে নেমে পুলিশ বেশকিছু সূত্র পায়।

আর তার ভিত্তিতে বাকি খুনের মামলাগুলির ফাইল খোলা হয়। এসপি লোধা রাহুল কুমারের নেতৃত্বে এক তদন্তকারী দল তৈরি হয়।

যাতে ছিলেন এসপি পদমর্যাদার অফিসার তথা এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী মহিলা প্লেয়ার বিট্টু শর্মা। তদন্তেই যাবতীয় দিক পুলিশকে আদেশ খামরার টেইলারিং শপ-এর দিকে নিয়ে যায়। আদেশের উপর নজরও রাখা হতে শুরু করে।

পুলিশ পিছনে লেগেছে দেখে আদেশ সুলতানপুর জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু পুলিশ জয়করণ নামে আদেশের এক সঙ্গীকে খুঁজে পায়।

জয়করণ নিজে খুন না করলেও সে আদেশের সঙ্গে থাকত। জয়করণের দাবি সে নাকি বারবারই আদেশকে জিজ্ঞেস করে এসেছে এই সব খুনের অর্থ কী? জবাবে, আদেশ নাকি বলেছিল, ‘ট্রাক চালক ও খালাসিদের জীবন খুব কষ্ঠের, তাই ওদের মুক্তি দিচ্ছি।

আদেশের খোঁজে পুলিশ সুলতানপুর জঙ্গলে ঢোকে। সেখানেই এসপি বিট্টু শর্মা প্রায় কিলোমিটার খানেক চেজ করে আদেশকে গ্রেফতার করেন। আদেশকে গান-পয়েন্টে নিয়ে নিয়েছিলেন বিট্টু সামান্য এদিক-ওদিক হলেই যে গুলিতে মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাবে তা বুঝতে পেরেছিল আদেশ।

এ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত দলের প্রধান এসপি লোধা রাহুল কুমার বলেন, এমন কঠিন ঘটনা একজন পুলিশ অফিসারের জীবনে একবারেই আসে।

৩৩টি খুনের আসামীকে ধরতে পেরে আমি অনেক খুশি ।তবে আদেশ কে গ্রেফতার করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে তারপরেও তাকে আটক করতে পেরেছি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি।

Facebook Comments