Friday , September 7 2018
Breaking News

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

আবর্জনার স্তূপ থেকে- মানুষের জীবনের গ্রাফ কখনোই সরলরেখায় হয় নয়, সেখানে ওঠাপড়া লেগেই থাকে। কখনো জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় আবার কখনো দুঃখের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। ওঠাপড়া নিয়েই তো মানুষের জীবন।

তার প্রতিটি বিন্দুতে বিন্দুতে লুকিয়ে থাকে বিস্ময় আর রোমাঞ্চ। আজ দাঁড়িয়ে ২৫ বছর পরের চিত্রপট বলা যেমনই কঠিন তেমনই অবাস্তব। তার চেয়ে ভালো বরং জীবনকে নিজের মতো করে ছেড়ে দেওয়া আর সে বয়ে চলুক নিজের মতো করে, নিজের স্রোতে।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

ইংরেজিতে একটা কথা আছে “জাস্ট গো উইদ ফ্লো।” জীবন কখন কোন দিকে বাঁক নেবে কখন বা পাল্টাবে তা আগে থেকে ঠাওর করা খুবই মুশকিল, তাই জীবন যেদিকে যেতে চায় সেদিকেই যেতে দিন। এইরকমই এক পাল্টে যাওয়া জীবনের কথা, এক চরিত্রের কথাই তুলে ধরা হলো আজ এই প্রতিবেদনে।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

ঘটনাটির কেন্দ্রস্থল আসাম জেলার তিনশুঁখিয়া। আসামের দরিদ্র অধিবাসীদের মধ্যেই একজন ছিলেন ‘সবিরান’। পেশায় সবজি বিক্রেতা। প্রতিদিন সকালে সবজি বিক্রি করতে বাজারে যায়, আর সেই সবজি বিক্রির টাকা থেকেই চলে সবিরানের ছোট সংসার। তার এই ছোট্ট সংসারে ঘটলো একদিন এক অদ্ভুত ঘটনা। ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকেই।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

একদিন রাস্তায় প্রতিদিনের মতই সবজি বিক্রি করছেন সবিরান, ঠিক এই সময়ই তার চোখে পড়ে রাস্তার ধারে আবর্জনার স্তূপের মধ্যে কিছু একটা পড়ে আছে এবং সেখান থেকে শব্দ হচ্ছে। সবিরান দৌড়ে গিয়ে দেখতে পান একটি বাচ্চা শিশু কন্যা সেখানে পড়ে আছে।

সবিরান অবাক হয়ে যান, গরিব হলেও সবিরান ছিলেন একজন ভালো মানুষিকতার মানুষ তাই সে বাচ্চাটিকে ওখান থেকে বাড়ি নিয়ে যান এবং তার প্রান রক্ষা করেন। মেয়েটির নাম রাখেন জ্যোতি।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

সবিরানের তখন বয়স ছিল প্রায় ৩০ আর ছিলেন অবিবাহিত। ফলে বাচ্চাটিকে মানুষ করতে তার কোন ধরণের অসুবিধা হয়নি। প্রবল দরিদ্রতার মধ্যেও কুড়িয়ে পাওয়া জ্যোতিকে তার নিজের মেয়ের মতনই আদর যত্নে মানুষ করেন সবিরান, তাকে বড় করে তোলেন।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

শুধু তাই নয়, জ্যোতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে উপযুক্ত শিক্ষাও দেন। তাকে পড়াশোনা শিখিয়ে করে তোলেন মানুষের মতো মানুষ। যাতে ভবিষ্যৎ জ্যোতিকে আর কোন সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়।

আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটি তার সবজি বিক্রেতা বাবাকে এত বড় প্রতিদান দিল…

বর্তমানে সেই জ্যোতিই বড়ো হয়ে একজন ইনকাম ট্যাক্স অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হয়েছেন। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের পদে কর্মরত জ্যোতিও বহু জায়গায় তুলে ধরেছেন সবিরানের অবদান।

জ্যোতি সবিরানকেই তার বাবা বলে বর্ণনা করেন সবজায়গায়। তাই স্যালুট জানাতেই হয় সবিরানের মতন এমন দৃঢ়চেতা, উদার মানসিকতার মানুষকে।

Facebook Comments