‘পেশাদারিত্বের সংকট সম্ভবত সবার আগে আমিই ভোগ করেছি। তাই সংকটটা মনে হয় আমাকে দিয়েই শুরু হয়েছে। আমি এখন বিকল্প পেশা বেছে নিয়েছি। গত দুই বছরে সেই বিকল্প পেশা দিয়ে যা আয় করেছি তা সারা জীবন নাটক করে আয়ের চেয়ে দশগুণ বেশি। তবে আমি অভিনয়কে ভালোবাসি। তাই বাসার মেকাপরুমের আয়নার সামনে নিজে নিজেই এখন অভিনয় করি। আমার অভিনয় মেধা কম নেই। চঞ্চল ও মোশাররফ করিমদের চেয়ে আমিও অভিনয় কম পারিনা। সুযোগ পেলে আমিও তাদের কাছাকাছি চলে যেতে পারবো। তবে সুযোগটা কে দেবে? কেবল পেশাদারিত্বের সংকটের কারণেই অন্য মাধ্যম বেছে নিয়েছি আমি।’
দেশে টিভি নাটকে পেশাদারিত্বের সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন একসময়ের নাটকের পরিচিত মুখ ও বর্তমানের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।
শুক্রবার বিকেলে ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’ আয়োজন করে ‘পেশাদারিত্বের সংকটে দেশের টেলিভিশন নাটক ও অভিনয় শিল্প’ নামের একটি মুক্ত আলোচনা। যেখানে নিজের আলোচনায় পেশাদারিত্ব মনোভাব ও ছোট পর্দায় কাজের মান নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেন জয়।
এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘকে উদ্দেশ্য করে জয় আরও বলেন, ‘আপনারা একবার শুধু চিন্তা করেন। শিল্পীদের, ডিরেক্টরদের ও নাট্যকারদের ভাঙ্গিয়ে নাটক বানিয়ে চালিয়ে যে চ্যানেলগুলে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে তাদের কাছে কিন্তু কোন শিল্পী নেই। শিল্পী আছে শিল্পী সংঘে, নির্মাতা আছেন ডিরেক্টরস গিল্ডে। অথচ আমাদের কাছে সব সোর্স আছে। তাদের কাছে কিছুই নেই। তাই এখন সময় এসেছে, শুধু চ্যানেলের উপর নির্ভর না করে চ্যানেলের বাইরে অনেক প্লাটফর্ম এসেছে। যারা হাজার হাাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার আমাদের।’
দেশের টিভি নাটকের পটভূমিত ছোট হয়ে আসছে, গল্পের চরিত্র কমে যাচ্ছে। শত শত অভিনয় শিল্পী কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং দর্শক প্রিয়তা হারাচ্ছে টিভি নাটক। এ বিষয়গুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়য়েছিল ওই সেমিনারের। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনয় শিল্প সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু, সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম, হিল্লোল,আজাদ আবুল কালাম, মোশাররফ করিম, চয়নিকা চৌধুরী, সুইটি, চিত্রলেখা গুহ, মোহন খান, তানিয়া আহমেদ, সুমন আনোয়ারউর্মিলা শ্রাবন্তী কর, জাকিয়া বারী মম, শামিমা তুষ্টি, রওনক হাসান,আহমেদ রুবেল, মাজনুন মিজান, বৃন্দাবন দাস, এস এ হক অলিক, সনি রহমান, কে এস ফিরোজ, মৌটুসি বিশ্বাস, লুতফুর রহমান জর্জ, এজাজ মুন্না, মোস্তফা মনন, সাজিন হাসান বাবু সহ অনেক নাট্যকার, নির্মাতা, শিল্পী।
এছাড়াও প্রবীন অভিনেতা ও নাট্য নির্মাতাদের মধ্যে ছিলেন মামুনুর রশিদ,ড. এনামুল হক, আবুল হায়াত,দিলারা জামান, মাসুম আজিজ, আফরোজা বানুসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
আলোর খবর
