একটা সময়ে বিশ্বকাপে খেলাই ছিল বাংলাদেশের প্রধান টার্গেট। সবশেষ বিশ্বকাপে হাথুরুসিংহের অধীনে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ দল। আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে এমন প্রত্যাশাই করছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরায় আবাসিক এলাকায় একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির আয়োজনে ভক্তদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ খেলেন সাকিব। এদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।
আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশের সব মানুষ আশা করছে আমরা এবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হই। এটা তো শুধু শুধু করছে না। এর আগে তো কোনোবার বলে নাই যে, আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি। এবার বলছে কারণ, তারাও এই জিনিসটা বিশ্বাস করে। আমরা প্লেয়াররাও বিশ্বাস করি। আমি নিশ্চিত ক্রিকেট বোর্ডের সবাই বিশ্বাস করে যে, এ রকম কিছু আমরা করতে পারি।’
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এবং দেশের বাইরে ওয়ানডে ক্রিকেটে অসাধারণ খেলছে বাংলাদেশ দল। সবশেষ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজেও দাপটের সঙ্গে (৩-০) জিতেছে টাইগাররা।
সাম্প্রতিক এই পারফরম্যান্স বিবেচনায় সাকিব বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের তুলনায় আমরা ওয়ানডেতে বেশি শক্তিশালী। আমরা এখন এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে, পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আমরা এশিয়া কাপে তাদের হারিয়েছি। আমাদের ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে। বিশ্বকাপ বড় টুর্নামেন্ট। নয়টা ম্যাচ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া অনেক কঠিন কাজ। সেমিফাইনালে উঠলেই বরং পরবর্তি ধাপটা সহজ। তবে প্রথমে নয় ম্যাচ খেলেই পরের দুটি (সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে।’
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড কন্ডিশন নিয়ে সাকিব বলেন, ‘ইংল্যান্ড এমন একটা জায়গা যেখানে আমরা খুব বেশি ভালো খেলিনি। আমাদের জন্য কঠিন। যদিও আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছি। সেখানে আমরা মাত্র একটি ম্যাচে ভালো খেলার কারণেই সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। আমাদের অনেক বেশি ভালো করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। সেটা কাজে লাগাতে পারলে ভালোই হবে।’
ইংল্যান্ডের উইকেট নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আইসিসির উইকেটগুলো ফ্লাট হয়। যেখানে ৩০০ বা তিনশতাধিক রান হয়ে থাকে। আর আমাদের সে রকম বোলার আছে যারা প্রতিপক্ষকে ৩০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারে। আবার আমাদের এমন ব্যাটসম্যান রয়েছে যারা তিনশতাধিক রান করতে সক্ষম। এ কারণেই আমি আশাবাদী। সবাই ভালো না করলে আমরা এমন ফল পেতাম না। ফল ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপে অনেক কাজে দেবে।’
বিশ্বকাপ জিততে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে জানিয়ে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘সব দিক থেকেই উন্নতি করার দরকার আছে। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আমাদের ফিটনেসও ঠিক রাখতে হবে। আমরা সেভাবেই অগ্রসর হচ্ছি। সঠিক রাস্তাতেই আছি। তবে ওই সময়ে আমাদের ফর্ম ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।’
আলোর খবর
