Sunday , November 4 2018

‘অন্য দেশে কী হয়?’ ড. কামালকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

অন্য দেশে কী হয় – সংলাপের এক পর্যায়ে সংসদ ভেঙে দেওয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সেখানে নির্বাচন কীভাবে হয়?

প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেন, আপনি তো সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আমি যতদূর জানি, ভারতে যখন নির্বাচন হবে, তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রিটেনে যখন নির্বাচন হবে, তখন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য সংসদীয় গণতন্ত্রে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। বাংলাদেশেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত কিনা?

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংলাপ রাত ১০ টার দিকেও সংলাপ চলছিল।

যে কারণে সংলাপে যাননি বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অপেক্ষার পালা শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আজ সন্ধ্যায় সাতটার দিকে গণভবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শুরু হয়েছে।

সংলাপের শুরতেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । কিন্তু, সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের ২১ সদস্যের যাওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যাননি।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গয়েশ্বরের বক্তিগত সহকারী মো. শাহীন। তিনি বলেন, ‘বিকালের দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন স্যার। এজন্য সংলাপে যেতে পারেননি।’

প্রথমে সবাই ভেবেছিল, সবার সঙ্গে গয়েশ্বরও আছেন। পরে রাতে জানা যায়, অসুস্থতার কারণে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংলাপে আসতে পারেননি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুর্ব নির্ধারিত ১৬ সদস্যের তালিকায় না থাকলেও পরে নতুনভাবে যুক্ত হন বিএনপির দুই নেতাসহ আরও পাঁচ নেতা।

তারা হলেন -বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগদুল হায়দার আফ্রিক এবং আ ও ম শফিক উল্লাহ।এই পাঁচ নেতার মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ড. মঈন খান সংলাপে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে যান।

ফলে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আর ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ২০ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। আর ১৪ দলের পক্ষে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গণভবনে প্রবেশ করেন ১৪ দলের নেতারা। এর ২০ মিনিট পর প্রবেশ করেন ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এদিকে সংলাপে অংশ নিতে বিকেল ৪টায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৈঠকে সংলাপের এজেন্ডা ঠিক করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চিঠি পেয়ে সংলাপে যেতে ১৬ নেতাকে নির্বাচন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আর সংলাপ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আজ আরো পাঁচজনকে যুক্ত করে তারা। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া এক চিঠিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকুল্লাহও যোগ দেবেন সংলাপে। এঁদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়া অন্যরা সংলাপে যোগ দেন।

সবার শেষে মান্না, গনভবনে যাননি গয়েশ্বর

সংলাপে অংশ নিতে সবার শেষে গণভবনে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গণভবনে আসেন তিনি।

এরআগে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা একে একে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গণভবনে পৌঁছান।

গণভবনে সর্বপ্রথম আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার ও আব্দুল মঈন খান।

তাদের কাছাকাছি সময়ে আসেন ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর আসেন অন্যরা।

ঐক্যফ্রন্টের ২১ জনের মধ্যে ২০ জন সংলাপে অংশ নিলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অংশ নিতে আসেননি।

প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে সংলাপে অংশ নেয়ার কথা ছিল ১৬ জনের। সেই তালিকায় নাম ছিল না গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানের।

পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরো ৫ জনের নাম পাঠানো হয় আওয়ামী লীগের কাছে। যে তালিকায় নাম দেয়া হয় বিএনপির ওই দুই নেতা এবং তিনজন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তারা হলেন; মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও আ ও ম শফিক উল্লাহ।

গণভবনে গয়েশ্বরের অনুপস্থিতির কারণ জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, প্রথম তালিকায় নাম না থাকার কারণে তিনি হয়তো রাগ করে অংশ নেননি। অথবা আর অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

গয়েশ্বরের অনুপস্থিতির কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বলছেন, গয়েশ্বরের নাম প্রথমে না থাকার কারণে তিনি আসেননি।

আবার কেউ বলছেন, এতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা আওয়ামী লীগের সামনে চলে আসলো।

গণভবনে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৩ জনই উপস্থিত আছেন। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন।

ঐক্যফ্রন্টের ২০ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সংলাপে প্রতিনিধি আছেন ৬ জন।

Facebook Comments