Tuesday , October 23 2018

বাবার মৃত্যুতে ছেলের আবেগতাড়িত স্ট্যাটাস

তিনি আর নেই, এ কথাটা যেন এখনও অবিশ্বাসই হচ্ছে। মনে হচ্ছে এখনই হয়ত তিনি ফিরে আসবেন আর বলবে, রূপালি গিটার হাতে আমি আবার এসেছি তোমাদের মাঝে। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন আমাদের সবার প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে তার আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব ফেসবুকে একটি আবেগতাড়িত স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি আশা করি আপনি যেখানেই থাকুন ঠিক আগের মতোই এইরকম করে হাসছেন। আমি আপনাকে ভালোবাসি, আপনাকে ছাড়া পৃথিবীটা খালি মনে হচ্ছে। যারা এই লেখা পড়ছেন তারা আমার বাবার মৃত আত্মার জন্য প্রার্থনা করুন।’

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর বাচ্চু ফুসফুসে পানি জমার কারণে এর আগেও ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন।

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট’-এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন নিয়ে মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদের সাথে বাচ্চুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্দ্বের সূত্রে বাচ্চু ও তার ব্যান্ড এল আর বি বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সদস্যপদ প্রত্যাহার করে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখ ও তবুও বের হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। ২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশিত। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন।

Facebook Comments