দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া কাঠালবাড়ী নৌরুটএ টাই ঢাকা খুলনা মহাসড়ক,যাত্রিদের চলা চলে নামের একটি প্রথম ইস্থান এ শিমুলিয়া ঘাট।
এখানে হোটেল রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে বাইরে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে দেশের এক প্রান্তথেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও নৌ-পথেই মানুষকে বেশি বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অদক্ষ চালক, নদীর স্রত, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সঙ্গে দূরপাল্লার সড়কপথে যাত্রীদের মাঝপথে খাবার গ্রহণে নতুন বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে হোটেল ব্যবসায়ীরা,অতীতের সব সীমা অতিক্রান্ত করে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে , এখানে এসব হোটেলে এক কেজি গরুর মাংস রান্নার পর তা ৯ভাগে ভাগ করে বিক্রি করা হয় এবং প্রতি ভাগের জন্য ১৪০-১৮০ টাকা দামে। সেই হিসেবে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি হিসাবে কিনে সেই মাংস ১২৬০-১৬০০ টাকায় বিক্রি করে। একই সাথে এককেজি সাইজের একটি পদ্মার ইলিশ বাজার মুল্যে ৭শ’টাকা থাকলেও তা ১২পিছ করা হচ্ছে প্রতি পিছ খাওয়ার পড় দাম ধরা হয় ,২৫০টাকা । তাতে মাছটির দাম হয়, তিন হাজার টাকা ( (গলাকাটা)।
এদিকে বেশ কিছু হোটেলে ঘুড়ে,দেখা গেছে পদ্মার ইলিশের বদলে বিক্রি হচ্ছে, চায়না ইলিশ (যা কি না) দেশের পুকুর গুলোতে চাষ করা পুটি মাছের মতো ও কোন প্রকার সু স্বাদ পাওয়া যায়না। তার প্রতি পিছ মাছের দাম একশত টাকা এক শ্রেণীর খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে ব্যবহার করে ব্যবসার নামে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে যাচ্ছে। যা অগ্রহণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গত কাল রবিবার সরোজমিনে দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন কালে মাওয়া ঘাটের ছালাম ,ও নিউ মোল্লা হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট এ আমরা ২৩ জন ক্রেতা খাবারের জন্য গেলে. সাড়ি সাড়ি ঝলমলে বাতি টিপটপ রয়েছে সাজানো গোছানো দূরথেকে বোঝাগেল এক ভিআইপি ক্যান্টিন,হোটেলের কর্মরত লোকেরা মামা বলে ডাকাডাকি শুরুকরেন আমরা এগিয়ে”গেলেই তাজা পদ্মার ইলিশ খাবেন বলে ফ্রিজ খোলে দেখালেন আমরা ৫টা ইলিশ কেটে ভালোকরে ভেজে দেয়ার অর্ডার করি সাথে ৩ আইটেম ভর্তা ও ২২পিছ চিংড়ি দিতে বলি ।খাওয়া শুরুর এক পর্যায়ে দোকান মালিক একটি লম্বা বিল তৈরী করেন ৭৪৫০,টাকা তাতে ৩৩৮টাকা প্রতিজনের খাবার বিল আসে ।
গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থ না দেখে ব্যাপকসংখ্যক সাধারণ মানুষের স্বার্থে মাওয়া(শিমুলিয়া)ঘাট এলাকার রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা করছি।এখানে পার্কিং দায়িত্ব বিআইডবিøউটিসির কর্মকর্তরা বলেন, যাত্রীদের এই বিড়ম্বনার সঙ্গে যুক্ত থাকে বাসের কিছু কর্মচারী। তারা তাদের ইচ্ছামত ঘাটের হোটেল বা রেস্তোরাঁয় নিয়ে বাসটি থামায়। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পান। এর সঙ্গে দূরপাল্লার বাস মালিকরা কেউ এককভাবে অথবা সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট খাবার হোটেলের সামনে নামাতে বাস কর্মচারীদের সঙ্গে গোপনে আতাত করেন। এর ফলে আশপাশে অন্য কোনো দোকান বা খাবার ব্যবস্থা না থাকায় ঐ হোটেলের খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। এসব হোটেলের খাবারের মান যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে নেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম।কথা হয় স্থানিয় আওয়ামীঃ নেতা মোঃ শেখ জামানের সাথে তিনি বলেন, জেলা শহরের প্রান্তসীমা বা ঘাট এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠা এই সব রেস্তোরাঁর খাবারের দাম অনেক সময় রাজধানী বা বড় শহরের খাবারের দামকেও হার মানায়।
আমরা মাঝে মধ্যে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি লক্ষ্য করি। কিন্ত ঘাটের বিআইডবিøউটিসির পার্কিং টার্রমিনালের পাশের এসব রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকির ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে। এই সব রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থান এই শিমুলিয়ার মতো ঘাট এলাকায়। যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করে কিছুটা আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়। যার পেছনে থাকে অসৎ ব্যবসার উদ্দেশ্য। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুসারে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না, যদিও ভোক্তার স্বার্থ দেখার জন্য পৌরসভা বা থানা পর্যায়ে সরকারি কর্মচারী থাকলেও তারা এ বিষয়ে মোটেও সক্রিয় নন।
এসব হোটেল রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকিই হয় না। ফলে এগুলোর মালিকরা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে।মাওয়ায় আটকে পরা ট্রাক চালকরা জানান আজ সকালে দু’পারে আটকে পড়েছে দীর্ঘ ট্রাকের সারি। ফলে কয়েক কোটি টাকার কাচাঁমাল পঁচে যাওয়ার আশঙ্কাসহ বিপাকে পড়েছে ট্রাক ড্রাইভাররা। কেউ কেউ ৩ দিন ধরে আটকা আছে মাওয়া ঘাটে সেই সাথে হোটেল গুলোতে দ্রব্যমূল্যর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে।
এখন পার্কিং করা গাড়িও নিরাপদ নয়। হোটেলে খেয়ে কে দিবে এই জরিমানা ? প্রশ্ন রেখে চালকরা জানান, অতিরিক্ত, খাবার ও অন্যান্য খরচতো আছেই।ঘাট এলাকার বিআইডবিøউটিসি ফেরী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা করা। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফা করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রচলিত আইনও এই স্বেচ্ছাচার সমর্থন করে না। আমাদের দেশে ভোক্তা স্বার্থ দেখার জন্য ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ১৮৬০ সালের দ বিধি, ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন রয়েছে। একইভাবে ১৯৫৭ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে তা অনুসরণ করে এই অতি মুনাফার প্রবণতা রোধ করা যায়।বিআইডবিøউটিসির মাওয়াস্থ সহকারী মহা ব্যবস্থাপক খালিদ নেওয়াজ জানান,ঐ সব হোটেল রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবারের যে মূল্য রাখা হয় তা কোনোভাবেই দেশের অন্যান্য খাবার হোটেল বা রেস্তোরাঁর খাবারের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। দু-একটি খাবারের দাম থেকেই আমরা তা বুঝতে পারি। যেমন, ছোট এক বাটি সবজির দাম রাখা হয় ২৫ টাকা। যা দেশের অন্যান্য স্থানের খাবারের হোটেলে রাখা হয় ১০ টাকা। তারা অতিরিক্ত মুনাফা করে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে শিমুলিয়া ঘাটের একটি খাবার হেটেলে যদি বছরে ৫০ হাজার বাটি সবজি বিক্রি হয় তাহলে তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঢাকা শহরের একটি ভালো হোটেলে ০৮ টাকা দামে চা পাওয়া গেলেও এখানে একটি হোটেলে সেই চা বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫- টাকায়।চাউলের বস্তাপ্রতি ২শ টাকা বাড়লেও প্রতি প্লেট ভাতের দাম ২০টাকা রাখা হয় ।ঘাটের বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ও খুদে ব্যবসায়ী হকার। আর এই ২০ হাজার শ্রমিকদের সাথে অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবারে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার লোক। অন্যদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ঘাট ইজারাদারদের।শিমুলিয়া নৌরুটে চলাচলরত ১৭টি ফেরী ৮৭টি লঞ্চে প্রায় ৬শ শ্রমিক, স্পীড বোটে থাকা ১২শ শ্রমিক, পত্রপত্রিকার হকার, পান-বিড়ির হকার সহ নানা খাবারের ব্যাবসায়ী ২ হাজার ও এই ঘাট থেকে চলাচলকৃত তিন হাজার বাসে থাকা ১৫ হাজার শ্রমিক সবাই খাবারের মূল্যের সঙ্গে অসহায়ত্বের কথা। বলেন এক রকম ক্রেতাদের গলাকাটা হচ্ছে।এদিকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিপুল ভ্রমনপিপাসু আসেন মিনি পর্যটন নগরী মাওয়া পদ্মাসেতু প্রকল্পের পদ্মাপাড়ে। প্রকৃতিকন্যা বিখ্যাত মাওয়া ঘাটের স্বচ্ছ নীল রেস্তোরা ও রির্সোট,গুলোতে দিন রাত মনভোলানো দৃশ্যপট, সবুজ শ্যামল দৃশ্য দেখতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা।এ ছাড়া বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও রয়েছে সব বয়সী মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে নেচে গেয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা।কেউ নদীর মাঝে মেতেছেন ঈদ আনন্দে। এ ছাড়া মাওয়া ঘাট ঘিরে বেড়ে ওঠেছে প্রচুর পরিমান দালান কোঠা প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে গত ও প্রতি শুক্রবার ভিড় দেখা যায় পর্যটকদের অনেক বেসি।
একটু প্রশান্তির জন্য অনেকেই ছুটে আসেন রাতের বেলায় পদ্মার তর তাজা ইলিশ ভাজা খেতে।শিমুলিয়ায় এই হোটেল গুলোতে ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা আমিনুল কবির সুমন জানান, ‘মাওয়া এক কথায় অসাধারণ। পদ্মার ঝরনাধার ঢেউ, নদীর স্বচ্ছ জল যে কারো মন ভুলাবে। আমি ও আমার পরিবার এখানে এসে মুগ্ধ শুধু মাওয়া নয় নদীর মাঝে, যেতে হয় স্পিডবোটে। অনুভূতি নিতে নদীর স্বচ্ছ পানিতে নৌকাভ্রমণ, আর পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই আলাদা।দেশের একমাত্র প্রযেক্ট সেতু এলাকা এটি মূলত নামে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছড়াছড়ি। জলমগ্ন যেন বিশাল এক সবুজ চাঁদোয়া গড়ে তোলে। স্বচ্ছ জলে এ চাঁদোয়ার ছবি ফুটিয়ে তোলে অপরূপ এক দৃশ্য।
তার সাথে তাল মিলিয়ে এক শ্রেণীর খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে ব্যবহার করে ব্যবসার নামে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে যাচ্ছে।ঘাট ঘিরে প্রচুর খাবারের হোটেলে চলছে মূল্যের সঙ্গে অসহায়ত্বের কথা।সেটি যেন আকাশ চুম্মি এক পিছ ইলিশ মাছের দাম ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা যেন ঢাকার ফাইভ ষ্টার হোটেলের মতো ,ভালোই লাগছে এখানে যেন আর না আসার অবস্থা হয়!